বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৮:১৯ পিএম
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:০০ পিএম
মঙ্গলবার উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে চবি শিক্ষক সমিতি। প্রবা ফটো
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষক সমিতির চলমান আন্দোলন নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষক সমিতি।
একসময় এই আন্দোলনকে শিক্ষক সমিতির একাংশের অযৌক্তিক, অন্যায় সিদ্ধান্ত আখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে সাধারণ শিক্ষকদের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষকদের অন্য একটি অংশ।
অবস্থান কর্মসূচিতে প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের অধ্যাপক ড. মু. গোলাম কবীর বলেন, ’সাদা দল থেকে নির্বাচিত লোকদের উপাচার্য গবেষণা সেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর বানিয়েছে। তিনি জামায়াত-শিবিরের লোক। তার তওবা করে পদত্যাগ করা উচিত। জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। আপনি মুখে বঙ্গবন্ধুর কথা বলেন। উপাচার্য আওয়ামী বানানোর সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। আওয়ামী বানানোর কারখানা তৈরি করেছেন। যত আওয়ামী লীগের লোক সব এখানে বসে আছেন। আমি জানি এখানে যারা বসে আছেন ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত কত কষ্ট করেছেন। উনাকে কখনও দলের মিটিংয়ে দেখিনি। তিনি শেখ হাসিনার পা ধরে ভিসি হয়েছেন। আপনারা সসম্মানে পদত্যাগ করুন।’

মানববন্ধনে চবির সিন্ডিকেট সদস্য ও আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বলেন, ’শিক্ষক সমিতির সাধারণ শিক্ষকদের মতামত নিয়ে বড় পরিসরে আন্দোলনে যেতে হয়। নির্বাহী পরিষদ তাৎক্ষণিক কর্মকাণ্ড ও রুটিন ওয়ার্কের কাজ করেন। কিন্তু কার সঙ্গে কী কথা হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে আন্দোলনে যাওয়া এটা আমি শিক্ষক সমিতির ঐতিহ্যে দেখি না। প্রশাসন যদি ৭৩-এর অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে, তাহলে এর জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় তা চ্যালেঞ্জ করা যায়। তা না করে নিজের মতো করে ৭৩-এর অ্যাক্ট ও সিন্ডিকেটকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে পক্ষান্তরে প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কের মুখে ফেলার শামিল।’
চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, ’আমাদের এক দফা দাবিতেই আমরা অটল আছি। আগামীকালও আমাদের অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষকদের স্বার্থে সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’