বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবদক
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৩ ২৩:০৪ পিএম
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৩ ২৩:১৩ পিএম
সারা মনি। প্রবা ফটো
সারা মনি। খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার বাসিন্দা। তার স্বপ্ন ছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সুযোগ পেয়েছিলেন গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায়। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি, হয়েছে স্বপ্নভঙ্গ। হঠাৎ আসা প্রাকৃতিক বন্যায় তার জীবনের মোড় পাল্টিয়ে দিয়েছে। ভেসে গেল বিশ্বদ্যিালয়ে পড়ার স্বপ্ন। নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। যার ফলে তার তথ্য জিএসটি থেকে অটো ডিলেট হয়ে গেছে।
মেধাস্থান ১৭ হাজার ৮৪২তম হয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে লোক প্রশাসন বিভাগে সুযোগ পেয়েছিলেন সারা মনি। গত বৃহস্পতিবার অনলাইনে ফিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্ত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার (১১ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভর্তি হওয়ার জন্য সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সময় মতো এসে কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি সারা মনি। তার পরের দিন শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ভর্তির ব্যাপারে যোগাযোগ করলে তাকে নেওয়া হয়নি ভর্তি। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেছে ভর্তি নেওয়া সম্ভব নয় বলে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে সারা মনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বন্যায় আমাদের ঘর-বাড়িতে পানি উঠে যায়। রাস্তাঘাট সব কিছু পানিতে তলিয়ে যায়। চট্টগ্রাম- কক্সবাজারের গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। সেই সময় কুমিল্লা গিয়ে কাগজপত্র জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিলনা।’
তিনি বলেন, ‘আমার অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হয়নি। আমাকে যদি বিশেষ বিবেচনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় একটা সুযোগ দেয় তাহলে চির কৃতজ্ঞ থাকব। আর না হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন এখানেই শেষ।’
ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান ড. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘জিএসটির নিয়ম হচ্ছে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাগজপত্র জমা নেওয়া। শিক্ষার্থী অথবা অভিভাবক যে কেউ এসে মার্কশীট জমা দিলেই এ ক্ষেত্রে হয়ে যায়। সারা মনি (ওনি) আমাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। আমরা তার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম কিন্তু তিনি নির্দিষ্ট সময়ে আসতে পারেননি। নির্দিষ্ট সময়ে কাগজপত্র জমা না দেওয়ার কারণে জিএসটি থেকে তার তথ্য অটো ডিলেট হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘এই ব্যাপারে আমরা জিএসটির সঙ্গে কথা বলব। যদি সম্ভব হয় তাহলে তার ভর্তি নেওয়া হবে।’