বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৩ ১০:১১ এএম
আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৩ ১০:৫৩ এএম
ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হল ছাত্রলীগের এক নেত্রীকে কক্ষছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকা বিনতে হোসাইনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেত্রী হলেন রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি আয়েশা সিদ্দিকা রুপা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারী এবং রোকেয়া হল ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী। ছাত্রলীগের নতুন কমিটির আগে তিনি হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অন্তরা দাস পৃথার রাজনীতি করতেন। তিনি থাকেন রোকেয়া হলের ১১২১ নম্বর কক্ষে।
রুপার অভিযোগ, গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার কক্ষে এসে তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেন আতিকা ও তার অনুসারীরা। এ সময় তার কক্ষের জিনিসপত্রও বাইরে ছুড়ে ফেলে দেন তারা।
ঘটনার একটি ভিডিও প্রতিদিনের বাংলাদেশের কাছে এসেছে। ভিডিওতে জোরপূর্বক কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার দৃশ্য ও চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা যায়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী আতিকা বিনতে হোসাইন।
জানা যায়, আয়েশা সিদ্দিকা রুপাকে রোকেয়া হলের ১১২১ কক্ষে সিট দেন ছাত্রলীগ নেত্রী ফাল্গুনী দাস তন্বী। এ নিয়ে আতিকার সঙ্গে তার ঝামেলা হয়। এর জেরে আতিকার নির্দেশে তার অনুসারী হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামিহা মাহুব ঐশী, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপর্ণা রায়, ছাত্রলীগ নেত্রী ফারজানা পারভীন কক্ষ থেকে রুপাকে বের করে দেন। এদের মধ্যে ফারজানা পারভীন ও বিপর্ণা রায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী, ঐশী ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়নের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
রুপা বলেন, ‘আতিকা আপুর অনুসারী আট থেকে দশ জন মেয়ে আমার জিনিসপত্র রুম থেকে ফেলে দেয়। রাত সাড়ে ১০টা থেকে তারা আমার রুমে অবস্থান করছিল। পরে আমাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেয়।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আতিকা বিনতে হোসাইন বলেন, ‘অন্য রুমে শিফট হওয়া নিয়ে রুপার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল, কিন্তু আমি তো তাকে বের করে দিইনি। সে নিজের ইচ্ছায় শিফট করবে। সে সেক্রেটারি (হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অন্তরা দাস পৃথা) ফোরামের তো, আমার এইদিকে আসতে চাচ্ছিল। আমি বলেছি একটা সিস্টেমেটিক ওয়েতে আসতে হবে। সেক্রেটারি আসুক তারপর আমরা বসব।’
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও মাজহারুল কবির শয়ন ও তানভীর হাসান সৈকতের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে জানা গেছে, রুপাকে বের করে দেওয়ার পর তিনি হলের সিক রুমে ছিলেন। ঘটনার পর খবর পেয়ে রাতেই হল প্রভোস্ট ও হাউস টিউটর ঘটনাস্থলে যান।
এ বিষয়ে জানতে আজ সোমাবার সকালে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।