লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৩ ০০:৫৪ এএম
মোহাম্মদ আতাউল করিম। প্রবা ফটো
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা (ডক্টর অব ফিলোসফি) করার সুযোগ পেয়েছেন মোহাম্মদ আতাউল করিম নামে একজন বাংলাদেশি ছাত্র। অক্সফোর্ডে তিনি আইন বিভাগের অধীনে ইন্টেলেকচ্যুয়াল প্রোপার্টি ল’ (মেধাসত্ব আইন) নিয়ে গবেষণা করবেন।
স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পরপরই আতাউল করিম সকল প্রক্রিয়া শেষ করেছেন বলে শনিবার (৬ মেল) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
আতাউল করিম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন গ্রামের মৌলভী আবদুল কাদেরের ছেলে। তার বাবা ছিলেন শিক্ষক। মা রোকেয়া বেগম গৃহিনী। আতাউল একাধারে আইনজীবী, শিক্ষাবিদ এবং আইন গবেষক। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।
২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের সিনিয়র লেকচারার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি সুপ্রীম কোর্টের একজন তালিকাভূক্ত আইনজীবী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকতা ও আইন পেশায় নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি আতাউল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আইন বিষয়ক বহু প্রতিষ্ঠানের গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। এর মধ্যে জার্মানির আইপিআর, এরিকসন, সুইজারল্যান্ডে জাতিসংঘের দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন অন্যতম।
আতাউল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) এবং এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি তুরস্কের আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টেলেকচ্যুয়াল প্রোপার্টি -ল’ (পেটেন্ট এবং ডিজাইন আইন) বিষয়ে এলএলএম এবং জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট থেকেও একই বিষয়ে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
পৃথিবীর বহু বিখ্যাত আইন বিষয়ক জার্নালে তার অনেক মৌলিক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। আইন বিষয়ে গবেষণায় অবদান রাখার জন্য ২০১৬ সালে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন স্বর্ণপদক পান।
সাংবাদিকদের আতাউল করিম জানান, ভবিষ্যতে তিনি বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে ইন্টেলেকচ্যুয়াল প্রোপার্টি ল (বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি) নিয়ে কাজ করতে চান। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা শেষে তিনি সে জ্ঞান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দিতে চান।
প্রসঙ্গত, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ে ডিপিল ডিগ্রী অর্জন করেছেন। বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীসহ ৩০ জন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন।