প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:৩৬ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৮:৪১ পিএম
অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ। ছবি : প্রবা
ঢাকার কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য সরকার ২০১৮ সালে অর্থ বরাদ্দ দিলেও ২০০ একর ভূমির পুরোটা অধিগ্রহণের কাজ সমাপ্ত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তিন বছরে অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১৮৮ দশমিক ৬০ একর জমি। এখনও বাকি রয়েছে ১১ দশমিক ৪০ একর।ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৯২০ কোটি ৯৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার।
অধিগ্রহণ অসম্পূর্ণ রেখেই বছরের প্রথম দিকে শুরু হয় ক্যাম্পাসের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ। কিন্তু সময়মতো বাকি ১১ দশমিক ৪০ একর ভূমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় অনেকটাই স্থবির হয়ে গেছে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ বালু ভরাট, লেক খননসহ সব ধরনের কাজ।
সরেজমিন দেখা যায়, অধিগ্রহণকৃত ভূমির দক্ষিণ-পূর্ব ও পশ্চিম অংশে চলছে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ ৷ উত্তর ও দক্ষিণ অংশ থেকে বাকি ১১ দশমিক ৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে কি না তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি প্রশাসন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১১ দশমিক ৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী দুই-তিন বছরেও এ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করতে পারবে বলে মনে হয় না। ফলে পূর্ণাঙ্গ সীমানাপ্রাচীর ও বালু ভরাট করে ক্যাম্পাস ভবন নির্মাণের উপযোগী করতে বহু বছর লেগে যাবে।

অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ। ছবি : প্রবা
জানা যায়, ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন : ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন করে একনেক। পরের বছর ২৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের নকশা দেখেন প্রধানমন্ত্রী। ওই প্রকল্পের আওতায় ছিল ভূমি অধিগ্রহণ, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, মাস্টারপ্ল্যান, বালু ভরাট, লেক খনন, অভ্যন্তরীণ ড্রেন ও সারফেস নির্মাণ ইত্যাদি। কাজের মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু কাজের মেয়াদ শুধু দফায় দফায় বাড়ানো হলেও বাস্তবে নেই কাজের কোনো অগ্রগতি। এ কারণে হতাশ শিক্ষার্থীরা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সহসভাপতি সুমাইয়া সোমা বলেন, ‘প্রকল্পটির মেয়াদ বারবার বাড়ানো হয়েছে। অধিগ্রহণের নামে বিলম্ব করা কাজের গাফিলতি ছাড়া কিছুই নয়। প্রকল্পে যে পরিমাণ অনিয়ম, লুটপাটের ভাগবাঁটোয়ারা হচ্ছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিবর্তে পকেট ভারী করতে বেশি ব্যস্ত।’
সহকারী রেজিস্ট্রার (স্টেট) কামাল হোসেন সরকার বলেন, ‘ক্যাম্পাসের দক্ষিণ পাশে বাংলাদেশ রেওলয়ে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিগ্রহণকৃত জমির মাঝে ৪২ শতাংশ জায়গা থেকে গেছে। এটা অধিগ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এখানে বস্তি এলাকা হয়ে যাবে। এটা অধিগ্রহণের অনুমতি পেতে দেড় বছর ধরে ঘুরছি। তবে এটা অধিগ্রহণের অনুমোদন এখন পর্যন্ত পাইনি। আশা করি শিগগিরই পেয়ে যাব। তা ছাড়া আরও ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। এটা হয়ে গেলেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন ফিজিবিলিটি টেস্ট (সম্ভাবনা পরীক্ষা) করবে। তারপর অধিগ্রহণ করা যাবে।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক কামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সামান্য কিছু ভূমি অধিগ্রহণ করতে বাকি রয়েছে। এটার অধিগ্রহণও প্রক্রিয়াধীন। শিগগিরই তা সম্পন্ন হয়ে যাবে।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইমদাদুল হক বলেন, রেললাইন ও মুজাহিদনগরের পাশে বাকি জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে একটা ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি আছে। সেটা নেওয়ার জন্য কথা চলছে। দ্রুতই জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হবে। মাস্টারপ্ল্যানের প্রাথমিক একটা কপি আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছে। আমরা কিছু কারেকশন দিয়েছি। শিগগিরই আরেকটা মিটিং আছে। মাস্টারপ্ল্যান প্রায় প্রস্তুত।
প্রবা/ইউরি/এমআই