বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৩ ১৪:১৫ পিএম
আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৩ ১৪:২২ পিএম
ফাইল ছবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চে উঠতে না দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ এক অতিথিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।
এ সময় জাবি ছাত্রলীগের সাবেক দুজন সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাংবাদিককেও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।
শুক্রবার (১০ মার্চ) রাত ১১টায় সেলিম আল দ্বীন মুক্তমঞ্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২তম ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, শাখা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন রনি, উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক উৎস দত্ত, উপ-ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক অরবিন্দ ভৌমিক, সহ-সভাপতি কেএম রহমান জাকারিয়া, উপ-আন্তার্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সবুজ রায়ের নেতৃত্বে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাদের সঙ্গে আরও ২০-২৫ জন ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন। তারা শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের অনুসারী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৩২তম ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে পারফর্ম করছিলেন সোলস ব্যান্ডের পার্থ বড়ুয়া। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা মঞ্চে ওঠার চেষ্টা করে। আয়োজকরা অনুষ্ঠানের স্বার্থে তাদের বাধা দেয়। এ সময় পার্থ বড়ুয়ার সাথে আসা লিটন নামে একজনকে মারধর করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিন পরিস্থিতি থামাতে গেলে তাকেও মারধর করে। শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও বাংলাদেশ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল পারভেজ ও সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম শাফিনকেও লাঞ্ছিত করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা।
প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিন বলেন, ‘আমি দেখতে পেলাম অনেকগুলো ছেলে মিলে লিটনকে মাটিতে ফেলে মারধর করছে। আমি পরিচয় দিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করি। আমার উপর চড়াও হয়ে আমাকে মারধর করা শুরু করে।’
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম শাফিন বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি দর্শক সারিতে ছিলাম। হঠাৎ করেই কিছু ছেলে মঞ্চে উঠে মারধর শুরু করে। আমি আর সোহেল ভাইসহ ঘটনা থামাতে গেলে আমাদের কথায় কর্ণপাত না করে উল্টো চড়াও হয়।’
ছাত্রলীগের সাবেক আরেক সভাপতি সোহেল পারভেজ বলেন, ‘ব্যান্ডের সাথে আসা লিটনকে মারধর করছে দেখে আমি ওখানে গিয়ে ওদেরকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। তখন আমার ভাঙা হাতে ব্যাথা পাই। তবে ওরা আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেনি।’
৩২তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অতিথিকে মারধরের সময় সোহেল পারভেজ ও শাফিন ছেলেদের আটকানোর চেষ্টা করলে তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিনকে বেধড়ক মারধর করে তারা।’
মারামারির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে উৎস দত্ত বলেন, ‘আমি তখন মুক্তমঞ্চের পাশে ছিলাম। একটা ঘটনা ঘটেছে আমি শোনার পর মুক্তমঞ্চে গিয়ে দেখি আমার হলের জুনিয়ররা সেখানে ঝামেলা করতেছে। তাই আমি আমার দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে হলের সিনিয়র হিসেবে সেখান থেকে জুনিয়রদের পাঠিয়ে দেই। আমি এই মারামারিতে সম্পৃক্ত নই। কেউ যদি বলে থাকে আমি সম্পৃক্ত তবে সেটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে বলেছে।’
আকাশ তুহিন বলেন, ‘আমি উপস্থিত ছিলাম মুক্তমঞ্চে। কী ঘটেছে ভেতরের কাহিনী বিস্তারিত জানি না। দেখলাম ঝামেলা হচ্ছে। এটা একটা ভুল তথ্য। আমি এমন কোনো ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না।’
বাবুল হোসেন রনি, সবুজ রায়ের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের সাথে মুঠোফোনে কল দিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।