কুবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৭:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:৪৫ পিএম
প্রবা ফটো
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরেও শেষ হয়নি শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সংকট। বিভাগের অধিনে খেলাধুলায় নেই স্বতঃস্ফূর্ত কোনো কার্যক্রম। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ভলিবল খেলার নেই স্থায়ী কোচ। রয়েছে মাঠের সংকট। এসব সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ করলেও এর সুরাহা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এতসব সংকটের মাঝেও আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টগুলোতে সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন কুবি শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় হকি টুর্নামেন্টে কুবি রানার-আপ হয়।
হকি দলের সদস্য ওয়াকিল আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি খেলার অনুশীলনের জন্য আলাদা মাঠ থাকলে আরও ভালো করা যেত। গত ১৯ ডিসেম্বর কুবি দল ভলিবল খেলতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। আমাদের ভলিবলের জন্য কোচ নেই। যদি থাকতো খেলায় ভুলগুলো ধরিয়ে দিলে আরও ভালো করা যেত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় হকি খেলতে গিয়েছিলাম তারা দেখেছি, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠগুলো মসৃণ। যা হকি খেলার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মাঠ উঁচু-নিচু ও গর্ত রয়েছে, এতে হকি খেলায় সমস্যা হয়।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুবির কেন্দ্রীয় মাঠ একটি। যেখানে একটি ক্রিকেট পিচ ও দুইটি ফুটবল খেলার গোলবার রয়েছে। কিন্তু নেই কোনো ভলিবল মাঠ, নেই হকি মাঠ, নেই বাস্কেটবল মাঠ। খেলোয়াড়দের বিশ্রামের জন্য নেই কোনো ড্রেসিং রুমেরও ব্যবস্থা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হকি টুর্নামেন্ট শুরু হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হকি খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় মাঠে। ভলিবল টুর্নামেন্ট শুরু হলে কেন্দ্রীয় মাঠের পাশেই অস্থায়ীভাবে বানানো হয় ভলিবল মাঠ। বাস্কেটবল মাঠ না থাকায় কোনো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণই করতে পারে না কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের নেই কোনো পরিচালক। উপপরিচালক দিয়েই চলছে কার্যক্রম।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লোকবল সংকটের কারণে একজন কর্মচারী ও উপপরিচালক দিয়েই চলছে বিভাগের কার্যক্রম।
শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক মনিরুল আলম মূলত হকি খেলার প্রশিক্ষক। শুধু হকি খেলার প্রশিক্ষক হয়েও তিনি একাই দিয়ে থাকেন ভলিবল, ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন খেলার প্রশিক্ষণ। এতে শিক্ষার্থীরা বলছেন সঠিক প্রশিক্ষণ পাচ্ছে না তারা।
তা ছাড়া ১০ লাখ টাকা খরচ করে বানানো ক্রিকেট পিচ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি, এটি ১০ লাখ টাকার পিচ হতেই পারে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, ‘এই পিচ দেখে মনে হয় না এটা দশ লাখ টাকা পিচ। আমরা নিজেরা বানালেও এর থেকে ভালো পিচ বানাতে পারব।’
তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ব্যায়ামাগার আছে সেখানেও নেই প্রশিক্ষক। নেই পর্যাপ্ত সরঞ্জামও। নিয়মিত ব্যায়ামগারে শরীর চর্চা করতে আসা শিক্ষার্থী পারভেজ মোশাররফ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ব্যায়ামাগারে শরীর চর্চার পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই। নেই কোনো প্রশিক্ষক। আমি প্রথম প্রথম এসে ভোগান্তিতে পড়েছি। এখন ইউটিউব দেখে শরীর চর্চা করি। আশা করি প্রশাসন দ্রুত এর সমাধান করবে।’
সার্বিক বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক মো. মনিরুল আলম বলেন, ‘আমাদের লোকবলের সংকট তাই বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছি। লোকবল নিয়োগ হলে আশা করি সংকটগুলো কেটে যাবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা কার্যালয়ের পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করার চেষ্টা করছি। এই সমস্যাগুলো নিয়েও উপাচার্য স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করব।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সংকট রয়েছে। আমি আসার পর থেকে এগুলোর দিকে নজর দিচ্ছি। আমরা অ্যাকাডেমিক দিকটাতে আগে জোর দিচ্ছি। দ্রুতই বাকি বিষয়গুলোর দিকে নজর দিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করব।’