× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সেশনজটে নাকাল কুবির তিন বিভাগের শিক্ষার্থীরা

কুবি প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:২৭ পিএম

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:৫৩ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রবা ফটো

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রবা ফটো

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের (১১তম ব্যাচ) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তরের শেষ পর্যায়ে থাকলেও স্নাতক পর্বই শেষ করতে পারেনি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং বিজ্ঞান অনুষদের রসায়ন ও ফার্মেসি বিভাগ।

ফলে ওই বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই শিক্ষাবর্ষের হয়েও সেশনজটে থাকায় হতাশায় ভুগছেন ওই তিন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের তথ্যমতে, ৮ থেকে ১০ সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল তৈরি করতে হবে বলে জানানো হলেও বিভাগগুলো মানছে না নিয়ম। নিজেদের ইচ্ছে মতো চলছে পরীক্ষা কার্যক্রম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের পরীক্ষা ২০২২ সালের জুলাই মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দুইমাস পিছিয়ে পরীক্ষাটি শেষ হয় একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর। 

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় আমরা অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছি। এখন আবার রেজাল্ট প্রকাশ করা নিয়ে শুরু হয়েছে গড়িমসি। বিভাগে যোগাযোগ করা হলে আমাদের আজকে কালকে বলে কালক্ষেপণ করছে। 

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেশনজট নিরসনে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করলেও স্থায়ী সমাধানের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বিভাগটি। উল্টো আন্দোলন করার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের নম্বর কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সেই শিক্ষককে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে সমালোচনা শুরু হলে ওই কোর্স ও পরীক্ষা কমিটির সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় অভিযুক্ত শিক্ষককে।

রসায়ন বিভাগের ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতক শেষ বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয় গত নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে। কিন্তু রেজাল্ট এখনো প্রকাশিত হয়নি। বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের সঠিক সময়ে শেষ হওয়ার কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনা আছে বলে মনে হয় না। শিক্ষা জীবন নিয়ে তামাশা করা ছাড়া কিছুই দেখছেন না। 

ফার্মেসি বিভাগের স্নাতক শেষ সেমিস্টারের পরীক্ষাও এখনো শেষ হয়নি। অথচ ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতক শেষ করার কথা ছিল ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, করোনার প্রকোপ, শিক্ষকদের তদারকির অভাব, মাঠকর্ম-ভাইভা গ্রহণে ধীরতা, ইন্টার্ন ছাড়া পরীক্ষার ব্যবস্থা না করা, ফলাফল প্রকাশে ধীরতা, সব শিক্ষকদের একসাথে কোর্স শেষ না করা ও শিক্ষকদের সামঞ্জস্যতার অভাব ইত্যাদি কারণে সেশনজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চার বছরের স্নাতক সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের লাগছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় বছর। আর পাঁচ বছরের স্নাতক সম্পন্ন করতে লাগছে ছয় থেকে সাত বছর।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের রেজাল্টের কাজ শেষ পর্যায়ে। শিগগির রেজাল্ট প্রকাশ করব। আমরা শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার শেষে তাদের নিয়ে এসাইনমেন্টর কাজে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান নিয়ে গবেষণার কাজ করি। সবসময় শিক্ষার্থীদের মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। এমনকি আমরা ১৬-১৭ সেশনের ব্যাচটির ১৩ মাসে চারটি সেমিস্টার নিয়েছি। আমরা খুব দ্রুত তাদের এগিয়ে আনার চেষ্টা করব।’

রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একেএম রায়হান উদ্দীন বলেন, ‘আমরা কিছুদিনের মধ্যে রেজাল্ট প্রকাশ করব। আমরা ল্যাব সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট হওয়ার কারণে আমাদের একটু সময় লাগছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের ১৫ জন শিক্ষক এর মধ্যে ৮ জন বর্তমানে ডিপার্টমেন্টে আছি। আমাদের ডিপার্টমেন্টে একজন কর্মচারী-কর্মকর্তা নাই আমাদের ফাইলগুলো রেডি করার জন্য। রেজাল্টের কাজ প্রায় প্রস্তুত। আমরা উপাচার্য স্যারকে বিষয়গুলো বলেছি। তিনি বলেছেন ইউজিসির একটা সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে যথাযথ নিয়োগ দিতে পারছেন না। তারপরও আমরা আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছি।’

ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আপনারা জানেন আমাদের ৫ বছরে স্নাতক। আমাদের একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং আছে যেটি ফোর্থ ইয়ার সেকেন্ড সেমিস্টারে হয়ে থাকে, সেটি ৩ ক্রেডিট। আমরা এর জন্য আমাদের শিক্ষার্থীদের স্বনামধন্য কোম্পানিগুলোতে ট্রেনিংয়ে  পাঠাই। কিন্তু আমরা সবসময় আবেদন করলেও কোম্পানিগুলে আমাদের সময় দেন না। এরপরও আমরা চেষ্টা অব্যাহত রাখি। আমাদের শিক্ষার্থীরা ঐ ট্রেনিং এ বেশি পিছিয়েছে তারপরও আমরা চেষ্টা অব্যাহত রাখছি। আর আমাদের ১৩ জন শিক্ষকের মাঝে ৮ জন  শিক্ষক বর্তমানে আছে। কিন্তু আমাদের ছয়টি ব্যাচ চলমান। শিক্ষক সীমিত হওয়ার কারণে এই সমস্যায় ভুগছি। আমরা খুব দ্রুত তাদের রেজাল্ট প্রকাশ করব।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন বলেন, ‘আমি বিভাগীয় প্রধানদের সাথে কথা বলে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।’

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হূমায়ন কবির বলেন, ‘আমি প্রত্যেকটা বিভাগের খোঁজ রাখছি। এই বিষয়ে তাদের সাথে আমার কোন মিটিং হয় নাই। যে বিভাগগুলোতে সেশনজট আছে ওই বিভাগের প্রধানদের সাথে আলোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করব।’

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম আছে। জনবলের তুলনায় কাজের চাপ বেশি হওয়ায় কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ ছাড়া দ্বিতীয় পরীক্ষকের থেকে খাতা আসতে দেরি হওয়ার কারণেও ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হয়ে থাকে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা