ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:৩৩ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:১২ পিএম
ফেনী সরকারি কলেজের গ্রন্থাগার। প্রবা ফটো
ফেনী সরকারি কলেজের বয়স পেরিয়েছে ১০০ বছর। ঐতিহ্যবাহী কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। শিক্ষার্থীদের অধ্যায়নে রয়েছে একটি গ্রন্থাগার। সেখানে রয়েছে পর্যাপ্ত বই। কিন্তু অধ্যায়নের জন্য আসন সংখ্যা একেবারে সীমিত; মাত্র ১৬টি। তাও আবার দুটি টেবিলে এই ১৬টি আসন বসানো। দীর্ঘদিন গ্রন্থাগার সংস্কার না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে বিশালাকার লাল-রঙা একটি দালান। চারপাশ দেখতে জরাজীর্ণ। ভবনের সিঁড়ি ধরে এগোলে দ্বিতীয় তলার মাঝামাঝি একটি কক্ষে কলেজের গ্রন্থাগার। ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে দুরাবস্থা। নেই পর্যাপ্ত বসার টেবিল ও আসন। তবে ২৯টি শেল্ফ আছে। যেখানে রয়েছে শত বছর পুরোনো বইয়ের সংস্করণ। শেল্ফের বাইরেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা আছে বই।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, একটু বৃষ্টি হলেই জরাজীর্ণ ভবনটিতে ছাদ চুঁইয়ে ভেতরে পানি প্রবেশ করে। তখন শেল্ফ ঢেকে রাখতে হয় ত্রিপল দিয়ে। তা ছাড়া ধুলোবালির সমস্যা তো আছেই। বিভন্ন সময় গ্রন্থাগারটি সরিয়ে স্থানান্তরের আলোচনা হলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ইচ্ছে থাকলেও তারা গ্রন্থাগারে বসে পড়াশোনা করতে পারেন না। এত বেশি শিক্ষার্থীর জন্য অল্পসংখ্যক আসনে বসে পড়ালেখা অসম্ভব।
ফেনী কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি (ভাইস প্রেসিডেন্ট) তোফায়েল আহম্মদ তপু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গ্রন্থাগারের ভেতরে প্রবেশের মতো পরিবেশ নেই। এটি এখান থেকে স্থানান্তর করতে কয়েকবার আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ উদাসীন হওয়ায় প্রকৃত পরিবেশ পাচ্ছে না গ্রন্থাগার।’
ছাত্রসংসদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক নুর করিম জাবেদ বলেন, ‘এখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-সংবলিত অনেক বই আছে। গ্রন্থাগারের ভেতরের পরিবেশ ভালো নেই। বইগুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।’
কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নোমান হাবিব বলেন, ‘আসন সংকটে শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারে প্রবেশ করতে চায় না। অনেকে এখানে অধ্যায়ন করতে আসেন। বসার সুযোগ না পেয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে যেতে হয়।’
সম্প্রতি কলেজের গ্রন্থাগারিক বাবুল চন্দ্র সাহা রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে বদলি হয়েছেন। এখন তার দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী গ্রন্থাগারিক আরজিনা আক্তার চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘শতবর্ষী কলেজে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সে ছোঁয়া গ্রন্থাগারে লাগেনি। গ্রন্থাগারে শত বছরের পুরোনো অনেক ঐতিহাসিক বই সংরক্ষণ করা আছে। এটি স্থানান্তর করা এখন সময়ের দাবি। তাহলে শিক্ষার্থীরা আবারও গ্রন্থাগারমুখী হবেন।’
গ্রন্থাগারটি সংস্কারে দুই বছর আগে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও অর্থাভাবে তা কার্যকর হয়নি বলে জানান কলেজ শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন।
তিনি বলেন, ‘গ্রন্থাগারের ভবনটি পুনঃনির্মাণের জন্য দুই বছর আগে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। অর্থাভাবে সেটি করা সম্ভব হয়নি। আর্থিক বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে।’
গ্রন্থাগারের আলাদা একটি ভবন প্রয়োজন বলে মনে করেন ফেনী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, ‘কলেজে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে। শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনুযায়ী আলাদা গ্রন্থাগার ভবন প্রয়োজন। কলেজের কিছু কাজ হাতে নেওয়া হলেও করোনাকালে সেগুলো থেমে যায়। তাই এটিও কিছু করা যায়নি। তা ছাড়া গ্রন্থাগারটি কমিশনার জয়নাল আবেদীন ভবনে স্থানান্তরের কথা থাকলেও সেটি সম্ভব হচ্ছে না। ওই ভবনে একাধিক বিভাগের শ্রেণিকক্ষ রয়েছে।’