ইবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৪ ঘণ্টা আগে
দেড় মাস ধরে প্রভোস্ট ছাড়াই চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লালন শাহ হল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দীর্ঘ দেড় মাস ধরে প্রভোস্ট ছাড়াই চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লালন শাহ হল। প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব, বিভিন্ন সেবায় বিলম্ব এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্যার সমাধানে কার্যকর তদারকির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। দ্রুত নতুন প্রভোস্ট নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গত ১৪ মে লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গাজী মো. আরিফুজ্জামান খানের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন কোনো প্রভোস্ট নিয়োগ দেয়নি।
এ অবস্থায় গত ২৩ জুন প্রভোস্টের কার্যালয়ে হল প্রশাসনের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. শরীফ মো. আল রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় হলের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাককে প্রভোস্টের অনুপস্থিতিতে সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন প্রভোস্ট না থাকায় হলের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে একাধিকবার যোগাযোগ করেও দ্রুত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে প্রভোস্ট না থাকায় নানা সমস্যা নিয়ে কার্যকরভাবে কারও সঙ্গে কথা বলতে পারছি না। হলের খাবারের মান নিম্নমানের, ওয়াইফাই নিয়মিত সমস্যায় থাকে, ওয়াশরুম অপরিষ্কার, ড্রেন পরিষ্কার না করায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। টিভি রুমে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে খেলা দেখা যায় না, ডিস সংযোগও নেই। মাঝেমধ্যে পানির সংকটও দেখা দেয়। সব মিলিয়ে প্রভোস্ট ছাড়া হল পরিচালনা কার্যত ব্যাহত হচ্ছে”।
আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মো. রাশেদ ইসলাম বলেন, “প্রভোস্ট না থাকায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে ভোগান্তি হচ্ছে। অ্যাডমিট কার্ডে স্বাক্ষর, হল ক্লিয়ারেন্স, সিটসংক্রান্ত জটিলতা কিংবা জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি খাবারের মান, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ ও ওয়াইফাই সমস্যার মতো বিষয়েও কার্যকর তদারকি নেই”।
সদ্য দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়া প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গাজী মো. আরিফুজ্জামান খান বলেন, “১৪ মে আমার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বর্তমানে পদটি শূন্য রয়েছে”।
মেয়াদ নবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “মেয়াদ বাড়ানো বাধ্যতামূলক নয়। তবে কর্তৃপক্ষ কাজের মূল্যায়ন করে চাইলে পুনরায় দায়িত্ব দিতে পারে। নতুন উপাচার্য স্যার সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিগগিরই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবে”।
হলের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আবাসিক শিক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমাকে সাময়িকভাবে হলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর হলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন জরুরি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে স্থায়ী প্রভোস্ট নিয়োগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এখনো কোনো আলোচনা বা যোগাযোগ হয়নি। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ দ্রুতই হলে একজন প্রভোস্ট নিয়োগ দেবে”।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, “আমি ছুটিতে থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতাম না। তবে আশা করছি, উপাচার্য মহোদয় ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে ফিরলে দ্রুত লালন শাহ হলের নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে”।