বৃক্ষ শুমারি
বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার সকালে শুমারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ছবি: ফেসবুক থেকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রথমবারের মতো পরিচালিত সমন্বিত বৃক্ষ শুমারি-২০২৫-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। শুমারিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৬২টি গোত্রের ২৭৭টি প্রজাতির মোট ১৭ হাজার ১৬১টি বৃক্ষ শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বৃক্ষের প্রজাতিগত বৈচিত্র্য, কার্বন মজুদ, জীবভর, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং অবস্থানভিত্তিক একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারও তৈরি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার সকালে এ শুমারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবরিকালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবরিকালচার সেন্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শুমারির তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের মোট বৃক্ষের মধ্যে প্রজাতির হিসেবে ৫৮ শতাংশ দেশীয় এবং ৪২ শতাংশ বিদেশি। তবে বৃক্ষসংখ্যার ভিত্তিতে দেশীয় ও বিদেশি বৃক্ষের অনুপাত যথাক্রমে ৫৪ শতাংশ ও ৪৬ শতাংশ। সর্বাধিক ১৫টি প্রজাতির মধ্যে পাঁচটি বিদেশি প্রজাতি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে মেহগনি, দেবদারু, ম্যাকারথুরি পাম, রেইনট্রি ও সেগুন উল্লেখযোগ্য।
শুমারিতে আরও দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বৃক্ষসমূহের মোট ভূ-উপরিভাগীয় জীবভর ৯ হাজার ৯০০ মেট্রিকটন এবং ভূ-নিম্নীয় জীবভর ২ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। এসব বৃক্ষের মাধ্যমে মোট ৪ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন কার্বন মজুদ রয়েছে। জীবভরের ক্ষেত্রে দেশীয় বৃক্ষের অবদান ২১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং বিদেশি বৃক্ষের অবদান ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
উপযোগিতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষসম্পদের মধ্যে ফলদ বৃক্ষ ২৫ শতাংশ, প্রাণিকূল সহায়ক বৃক্ষ ২২ শতাংশ, ঔষধি বৃক্ষ ২১ শতাংশ, কাঠ উৎপাদনকারী বৃক্ষ ২০ শতাংশ এবং শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ ১২ শতাংশ।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য মূল্যায়নে মোট ১ হাজার ৮১১টি বৃক্ষকে বিভিন্ন মাত্রার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে এবং ২ হাজার ২১৩টি বৃক্ষকে সম্ভাব্য 'ট্রি হ্যাজার্ড' বা বৃক্ষজনিত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে পরিচালিত এ শুমারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে পাঁচটি প্রধান জরিপ একক ও ৪৫টির বেশি উপ-এককে ভাগ করে প্রতিটি বৃক্ষের তথ্য 'ডাইরেক্ট মেজারমেন্ট মেথড'-এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। পরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য, জীবভর, কার্বন মজুদসহ বিভিন্ন সূচক নিরূপণ করা হয়। একই সঙ্গে Google My Maps ও ArcGIS-এর সহায়তায় একটি উন্মুক্ত ডিজিটাল ও মানচিত্রভিত্তিক বৃক্ষ ডাটাবেজও তৈরি করা হয়েছে।