শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে ‘এক ছাতার নিচে’ পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, “সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণই শিক্ষা সংস্কারের প্রথম ধাপ”।
চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মঙ্গলবার দুপুরে এ সব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ২০ জুলাই মাধ্যমিক ও সমমানের (এসএসসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব শিক্ষা বোর্ডের উত্তরপত্র র্যান্ডম পদ্ধতিতে যাচাই করা হবে। কেউ কম বা বেশি নম্বর দিয়েছে কিনা, তা আমরা যাচাই করবো।
পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান বিশেষ কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমাদের বাংলাদেশ একটি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ভেতরে আরেকটি বাংলাদেশ হতে পারে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তদারকির বাইরে কিছু নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে”।
পরীক্ষা কেন্দ্রসংক্রান্ত সমস্যা কমাতে প্রতি চারটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে পৃথক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রশ্নফাঁস প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “অতীতে এটি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই চক্র ভাঙতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে”। শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “আগামী প্রজন্মকে শুধু শিক্ষিত নয়, আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে”। শিক্ষার হার বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।