খুবি শিক্ষার্থী মো. মিরাজুল ইসলাকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যসূত্র, অডিও-ভিডিও রেকর্ড এবং লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) উপাচার্যের বক্তব্য বিকৃত ও বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ এনে ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. মিরাজুল ইসলামকে নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত স্বাক্ষরিত চিঠিটি গত ১০ জুন জারি করা হয়।
নোটিশে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যসূত্র, অডিও-ভিডিও রেকর্ড এবং লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ৯ জুন দৈনিক কালের কন্ঠে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে খুবিতে বৃক্ষরোপণ শিরোনামের প্রতিবেদনে উপাচার্যের বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে মিরাজুল ইসলাম বলেন, “তিনি পেশাগত দায়িত্ব ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করেছেন এবং তার কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ রয়েছে”।
তিনি দাবি করেন, কোনো আপত্তি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছে জানানো যেতে পারে। শিক্ষার্থী পরিচয় ব্যবহার করে সরাসরি সাংবাদিককে নোটিশ দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ।
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রবিষয়ক পরিচালক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক কালের কণ্ঠ বরাবরও চিঠি পাঠানো হয়েছে”।
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব মো. আব্দুস সবুর বলেন, “কোনো সংবাদের ব্যাখ্যা চাইলে প্রচলিতভাবে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সংবাদ বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক হলে এমন পদক্ষেপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে”।
এদিকে সাংবাদিককে দেওয়া প্রশাসনের চিঠির ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (খুবিসাস)।
সংগঠনের নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী কোনো সাংবাদিক তার তথ্যসূত্র বা অডিও রেকর্ড প্রশাসনের কাছে জমা দিতে বাধ্য নন। শিক্ষার্থী পরিচয়কে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলে তারা এ উদ্যোগ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।