প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে “সামার অ্যাডমিশন ফেয়ার ২০২৬”। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে “সামার অ্যাডমিশন ফেয়ার ২০২৬”। এই আয়োজনে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় স্কলারশিপ সুবিধা এবং ভর্তি ফিতে ৭৫% বিশেষ ছাড়। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ (গোল্ডেন) প্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং ইংরেজি মাধ্যমের (ও এন্ড এ) লেভেল পাসকৃত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিতে ১০০ শতাংশ স্কলারশিপ প্রদান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: উচ্চশিক্ষায় বৃত্তির খোঁজ |
এছাড়াও ফেয়ারে থাকছে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ স্কলারশিপ, ভর্তি ফিতে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ শতাংশ বিশেষ ওয়েভার এবং গ্রুপ ওয়েভার সুবিধা। পাশাপাশি, ভর্তি মেলায় অংশ নিয়ে ভর্তি সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে বিশেষ উপহার।
উচ্চশিক্ষাকে আরও সময়োপযোগী, আধুনিক ও কর্মমুখী করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গুলশানে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয় আউটকাম বেসড এডুকেশন (ওবিই) পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা, সমস্যা সমাধান ক্ষমতা এবং পেশাগত প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে প্রকৌশল, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন, ইংরেজি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিএসই, ইইই, বিবিএ, এলএলবি, বিএ (অনার্স) ইন ইংলিশ, বিএসএস (অনার্স) ইন ইকোনমিকস।
গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে রয়েছে এমবিএ ও ইএমবিএ, এলএলএম, এমএ ইন ইএলটি, এমএসএস ইন ইকোনোমিকস। ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্যও প্রকৌশল প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো বিবিএ ও এমবিএ প্রোগ্রামে থাকা বহুমুখী মেজরসমূহ- একাউন্টিং, মার্কেটিং, ফাইন্যান্স, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজম্যান্ট, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজম্যান্ট, ম্যানেজম্যান্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস ও অপারেশন ম্যানেজম্যান্ট।
সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রোগ্রামে নতুন সংযোজন হিসেবে যুক্ত হয়েছে এপারেল মার্সেন্ডাইজিং মেজর, যা দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই মেজরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গার্মেন্টস সাপ্লাই চেইন, সোর্সিং, প্রোডাকশন প্ল্যানিং, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, কস্টিং এবং আন্তর্জাতিক বায়ার কমিউনিকেশন বিষয়ে বাস্তব ও শিল্পভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। ইন্টার্নশিপ, ফ্যাক্টরি ভিজিট এবং ইন্ডাস্ট্রি প্রজেক্টের মাধ্যমে তারা হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারছে, যা কর্মক্ষেত্রে তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এখানে অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দের পাশাপাশি দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-ভিত্তিক প্রজেক্টের মাধ্যমে বাস্তব জগতের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
সহশিক্ষা কার্যক্রমেও বিশ্ববিদ্যালয়টি সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকে। প্রতিটি বিভাগে রয়েছে নিজস্ব ক্লাব, পাশাপাশি রয়েছে রিসার্চ ক্লাব এবং পাবলিক স্পিকিং ফোরাম। এসব প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, গবেষণামূলক চিন্তাভাবনা এবং যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
অ্যাডমিশন ফেয়ারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভর্তি প্রক্রিয়া, স্কলারশিপ সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি জানতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই আয়োজন মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় আরও উৎসাহিত করবে এবং তাদের জন্য একটি আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষার পথ উন্মোচন করবে।