বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬ ১৫:৩১ পিএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৬ ১৫:৪৪ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী অভয় কুমার সিংহকে মারধরের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: চবি ছাত্রদল নেতাকে নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটকের অভিযোগ |
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসী তামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক চন্দন দাস, যুগ্ম-আহ্বায়ক বলক দাস এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক রিপন চন্দ্র সরকারকে তাদের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
জানা যায়, ভুক্তভোগী অভয় কুমার সিংহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং জগন্নাথ হলের আবাসিক ছাত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “পায়ের সমস্যার কারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ কক্ষে থাকলেও একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে।”
অভয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় হলের রবীন্দ্র ভবনের নিচে মনশ্রী হালদারের চায়ের দোকানে বসে থাকার সময় পায়ের সমস্যার কারণে তিনি পা তুলে বসেছিলেন। এ সময় চন্দন নামের এক শিক্ষার্থী তাকে পা নিচে নামিয়ে বসতে বলেন। অভয় জানান, জায়গা ফাঁকা থাকায় তিনি পরে পা নামিয়ে নেন এবং বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়েছে বলে মনে করেছিলেন।
তবে পরে আনন্দ বাজার থেকে কক্ষে ফেরার পর চন্দন, ঝলক দাস, রিপন ও সৌরভ নামের চারজন তার কক্ষে ঢুকে শারীরিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাদের বিরুদ্ধে থাপ্পড় মারা এবং ভবিষ্যতে চায়ের দোকান বা হলের নিচে দেখা গেলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন অভয়।
এ বিষয়ে জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক নিত্যানন্দ পাল বলেন, “অভয় কুমার সিংহ দাদার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক ঘটনার যথাযথ বিচার ও উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে বদ্ধপরিকর।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই ভিক্টিমের সঙ্গে কথা বলে তাকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে যাদের ছাত্রদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে গত রাতেই প্রাথমিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিত্যানন্দ পাল দাবি করেন, “ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়। ভিক্টিমও কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করেননি। তবে কিছু মহল ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।”
তিনি বলেন, হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ছাত্রদল ভিক্টিমের পাশে থাকবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাবে।