বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬ ১১:৪৩ এএম
আপডেট : ১৭ মে ২০২৬ ১২:৪৭ পিএম
আহত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল দেওয়ানকে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করার ঘটনায় অভিযুক্ত অটোচালককে আটক করেছে পুলিশ।
নগরীর ভদ্রা মোড় এলাকায় শনিবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম শাকিল দেওয়ান। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
হামলায় তার মাথায় আঘাত লাগে এবং কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শাকিল দেওয়ান বলেন, তিনি সাইকেল নিয়ে টিউশনিতে যাচ্ছিলেন। ভদ্রা মোড়ে পৌঁছালে এক অটোচালক তাকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি ও গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ জানালে ওই চালক ক্ষিপ্ত হয়ে রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত অটোচালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে তাকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে চন্দ্রিমা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “ঘটনাটি জানার পরপরই শিক্ষার্থীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করি।
“পাশাপাশি অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য বোয়ালিয়া থানার ওসির সাথে কথা বলে দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
ওই রাস্তায় শিক্ষার্থীরা প্রায়ই হেনস্তা ও ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, “তাদের (শিক্ষার্থীদের) নিরাপদ চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে আমরা আজই পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিচ্ছি এবং মাননীয় উপাচার্যের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”
এ বিষয়ে জানতে রবিবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলামের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয়।
রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত অটোচালককে আটক করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ভদ্রা মোড়ের ওই রাস্তায় শিক্ষার্থীরা প্রায়ই হেনস্তা ও ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর যে দাবি করেছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য রাস্তায় কিছু লাইট বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে সৃষ্ট আলোকস্বল্পতার সুযোগ নিয়ে ইদানীং অপরাধমূলক ঘটনা কিছুটা বেড়েছে।
তবে কমিশনার ওই রাস্তায় পুনরায় সব লাইট চালু করতে বলেছেন বলেও জানান তিনি।