মাহরিব বিন মহসিন, ঢাবি
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬ ০৮:৪৯ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি
ঢাবি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞান ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের পরও প্রায় শত শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, কর্তৃপক্ষের অপরিকল্পিত মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া এবং ভর্তি কার্যক্রম দ্রুত সমাপ্ত করার কারণে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে বহু আসন ফাঁকা থাকলেও ভর্তি নেওয়া হয়নি।
২৮ এপ্রিল সর্বশেষ মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে ওই মাইগ্রেশন প্রক্রিয়ায় ফাঁকা থাকা আসনের মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পূরণ হয়। এরপর চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম শেষ ঘোষণা করা হলে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন শূন্য থেকে যায়।
ভর্তি-বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএলইটি), ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর), রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসহ আরও কয়েকটি বিভাগে আসন খালি থাকা সত্ত্বেও নতুন কোনো মাইগ্রেশন বা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। এতে অন্তত ১০০ শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হারিয়েছেন ।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরিশ্রমের পর ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে সুযোগ না পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।
বিশেষ করে আইএলইটিতে আসন ফাঁকা রাখার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেখানের বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত চামড়া শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত অতিরিক্ত মাইগ্রেশন অথবা বিশেষ ভর্তি কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।
ক্ষোভ জানিয়ে বাদ পড়া শিক্ষার্থী মো. তুহিন শেখ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নটা শুধু একজন শিক্ষার্থীর না, একটা পুরো পরিবারের স্বপ্ন। আমরা যারা দিনরাত পরিশ্রম করে এই জায়গায় পৌঁছেছি, তাদের জন্য এটা শুধু একটি সুযোগ হারানো নয় বরং বহু বছরের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার মতো কষ্ট। দুঃখজনক বিষয় হলো– আসন খালি রেখেই ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর জায়গায় দাঁড়িয়ে এই সিদ্ধান্ত কতটা হতাশাজনক সেটা হয়তো কর্তৃপক্ষ অনুভব করবে না।
ঢাবির ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী মো. শাহিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতায় এবার এতগুলো সিট ফাঁকা থেকে গেছে। এজন্য ঢাবির স্বপ্ন বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের সিরিয়াল ৫৪০১। ফাঁকা সিটগুলো পূরণ করলে সে ভর্তি হতে পারত।
কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক থাকায় এ বছর আমাদের ভর্তি পরীক্ষা পেছাতে হয়েছিল। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন ও রমজানের বড় বন্ধ থাকায় ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা তাড়াহুড়ো করতে হয়েছিল। এজন্য হয়তো মাইগ্রেশনের পরেও কিছু সিট ফাঁকা থেকে যায়।
জানতে চাইলে বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি কমিটির প্রধান ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান বলেন, কিছু বিভাগে প্রযোজ্য চাহিদার আলোকে প্রতিবছর শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। এ বছরও সেইম ঘটনা ঘটেছে বলে আমার মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সায়েন্সের বিভাগগুলোতে সাধারণত ক্লাস শুরুর ৩-৪ মাস পরে আর নতুন করে ভর্তি নেওয়া সম্ভব হয় না। কারণ এ সময় কাউকে ভর্তি নিলে সে বাকিদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকবে। এজন্য বিশেষ মাইগ্রেশন দিয়েও নতুন করে ভর্তি নেওয়ার সুযোগ থাকে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মু. আব্দুস সালাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির যে রিকোয়ারমেন্ট সেটা অনেকে পূরণ করতে পারে না। এ ছাড়া, কিছু কিছু বিভাগের ক্ষেত্রে আলাদা কিছু রিকোয়ারমেন্ট থাকে। যে কারণে এসব বিভাগে প্রায়ই আসন ফাঁকা থেকে যায়।
তিনি বলেন, কিছু আসন প্রতিবছরই ফাঁকা থাকে এবং এটা মেনেই আমাদের কন্টিনিউ করতে হবে।