ববি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬ ২০:৪০ পিএম
আপডেট : ১০ মে ২০২৬ ২২:৩৬ পিএম
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ফটো
পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন না হওয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে আগামীকাল সোমবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণাঙ্গ অ্যাকাডেমিক শাটডাউন (সব ধরনের পাঠদান ও পরীক্ষা বন্ধ) পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে রবিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
শিক্ষক সমাজের অভিযোগ, গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, সিন্ডিকেট সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার ও ডিনদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এক ত্রিপক্ষীয় সভায় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, ৮ মে’র সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী চলমান সংকট নিরসন করা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে উপাচার্য গত ৮ মে দিবাগত রাতে আকস্মিক নোটিশের মাধ্যমে ৯ মে সকালে একটি ‘এজেন্ডাবিহীন’ জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। শিক্ষকদের দাবি, উক্ত সভায় অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামতকে তোয়াক্কা না করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে রবিবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি সাধারণ সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে আগামী ১১ মে থেকে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে চলমান ক্লাস ও পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক, অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শাটডাউন ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও ওই সভায় প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, সর্বশেষ জরুরি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পাঁচজন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, দুই মাসের মধ্যে পদোন্নতির সংবিধি প্রণয়ন করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পদোন্নতির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এখন শুনছি আমি নাকি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছি। কিন্তু সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তারা এ বিষয়ে কোনো ভিন্নমতও পোষণ করেননি বা নোট অব ডিসেন্টও দেননি।
শিক্ষক কর্তৃক অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা ঘোষণা করতেই পারে। আমাকে সরকার এখানে দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছে। সরকার যতদিন দায়িত্বে বহাল রাখবে, ততদিন নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব পালনে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।