কুবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬ ১৮:০২ পিএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আনন্দের সঙ্গে দায়িত্ব হস্তান্তর করে পূর্বের কর্মস্থলে চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ( কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ এমদাদুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন তিনি।
উপাচার্য হায়দার আলী বলেন, 'আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার জন্য কারো নিকট কোনো দাবি কিংবা তদবির করিনি। নির্বাচনের পর উপাচার্য হিসেবে থাকার জন্য আমি কোনো মন্ত্রী, এমপি, সচিব, শিক্ষক নেতাদের নিকট চেষ্টা, তদবির করিনি।
কুবি উপাচার্য বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদ আঁকড়ে ধরে রাখার কারণে বহুদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটেছে, সেশনজট বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হয়েছে। আমি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় একদিনের জন্যও বন্ধ থাকেনি, শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটেনি। আমি এখনো চাই, এই পদত্যাগ ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষায় বিঘ্ন না ঘটুক। এটা তখনই সম্ভব হবে, যখন সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা মেধাবী মানুষের স্থান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা থাকলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটা ইউজিসির র্যাংকিং-এ তৃতীয় শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতঃপূর্বে যত উপাচার্য এসেছেন কমবেশি সবার সময়েই ক্যাম্পাস অশান্ত হওয়ার, থাকার প্রচেষ্টার ইতিহাস শুনেছি। কুমিল্লাবাসীর কাছে আমার অনুরোধ, বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বাঁচান। দলমত নির্বিশেষে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করুন যাতে এটি দেশের প্রথম শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী ও কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে ‘সচেতন শিক্ষার্থী’ ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। একইদিনে তাদের পদত্যাগের দাবিতে কুবি শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।