কুবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬ ১৮:২৩ পিএম
আপডেট : ০৮ মে ২০২৬ ১৮:০৪ পিএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে গোল চত্বরে মানববন্ধন করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে বুধবার এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এনআইডি কার্ড সংক্রান্ত মামলায় উপাচার্যের গ্রেপ্তারের দাবিও জানান তারা।
মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শরিফ হোসেন বলেন, “২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেও, তার মাধ্যমে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা হলসহ বিভিন্ন দায়িত্বে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ ও হলে জামায়াতপন্থী দলীয়করণ করার চেষ্টা করেছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থী কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে আবেদন করলেও, দলীয়করণের জন্য তাদের বাদ দিয়ে নিজস্ব লোকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই অন্যায় ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ভিসির এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ভিসিকে লাল কার্ড দেখাবে।
পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাগর আহমেদ বলেন, “ড. লেলিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক নিয়োগ পরীক্ষায় পাঁচবার উত্তীর্ণ হওয়ার সত্ত্বেও তাকে পাঁচবারই ভাইভা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। হাসিনার আমলে চারবার এবং বর্তমানে আবারও তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে”।
তিনি বলেন, “আমাদের ট্রেজারার ড. মোহাম্মদ সোলাইমানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা রয়েছে। তাকে জবাবদিহিতার জন্য প্রশ্ন করা হলেও এখন পর্যন্ত তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দেননি আমরা জানাতে চাই, প্রশাসন যদি তাদের এসব অভিযোগের সঠিক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে আমরা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করব।
অর্থনীতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম শাওন বলেন, “এমন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে, গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে এমন একজন ভিসির বহাল থাকা আমাদের কাছে লজ্জাজনক, আমরা অপমানিত বোধ করি। তাই আজ আমরা বলতে চাই, নাগরিক তথ্য পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া এই ভিসিকে আমরা তার পদে দেখতে চাই না। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, অতিবিলম্বে এই ভিসিকে অপসারণ করতে হবে”।