× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নিম্নমানের খাবারে সয়লাব ঢাবির আবাসিক হলগুলো

ঢাবি প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬ ২০:২৯ পিএম

আপডেট : ০৫ মে ২০২৬ ২২:২৮ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোর ডাইনিং ব্যবস্থায় নিম্নমানের খাবার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অপর্যাপ্ত পুষ্টিগুণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমেই অসন্তোষ বাড়ছে। হল ডাইনিং, ক্যাফেটেরিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্যান্টিন ও দোকানে-কোথাও মিলছে না স্বাস্থ্যকর খাবার। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সমস্যার কার্যকর সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হলের শিক্ষার্থীরা।

এক জরিপে জানা যায়, ঢাবির হলে থাকা শিক্ষার্থীদের ৭০ ভাগই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসা। তাদের একমাত্র ভরসা হলের ক্যান্টিন। কিন্তু হলের ক্যান্টিনগুলোতে খাবারের মান দিনের পর দিন নিম্নমুখী হচ্ছে।

মান নিয়ে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের

শিক্ষার্থীরা বলছেন, কবি জসিমউদদীন হলের ক্যান্টিনে প্রতি পিস মুরগির মাংস ও মাছের দাম ৪৫-৫০ টাকা। কিন্তু তার মান অত্যন্ত বাজে। শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে এসব খাবার খেয়ে দিন পার করছে শিক্ষার্থীরা। সবজির অবস্থা আরও বাজে। প্রায়ই পচা সবজি রান্নার অভিযোগ ওঠে নানা ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়ায়। এমনকি, খাবারে মাছিসহ নানা কীটপতঙ্গ পাওয়ার অভিযোগ আসে অহরহ। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলের ক্যান্টিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্যান্টিনের রান্নাঘরগুলোতে অস্বাস্থ্যকর ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্যান্টিন, ক্যাফেটেরিয়া বা দোকানগুলোতে যারা কাজ করে তাদের অধিকাংশই শিশু, যাদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে নেই কোনো ন্যূনতম ধারণা। আর এসব জায়গায় রান্নায় ব্যবহার করা হচ্ছে খুবই নিম্নমানের তেল, টেস্টিংসল্টসহ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন উপকরণ।

নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ

২০২৩ সালের এক গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ক্যান্টিন খাবারে ই.কোলাইসহ একাধিক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেলেও, এ বিষয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের হাউস টিউটররা নিয়মিত ক্যান্টিন তদারকির কথা থাকলেও তারা খুব কমই ক্যান্টিনমুখী হন। যার ফলে অবাধে বাসী, পচা ও নিম্নমানের খাবার রান্না হচ্ছে ক্যান্টিনে। 

না প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্যান্টিন বয়ের ভাষ্য, “স্যারেরা কয়েকমাস পর পর একবার আসেন ক্যান্টিনে”।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী প্রতি সপ্তাহেই ক্যান্টিনে তদারকির কথা হাউস টিউটরদের।

এ বিষয়ে রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী সুস্মিতা খাতুন বলেন, হলের খাবারের মান এতটাই খারাপ যে প্রথমবার কেউ এই খাবার খেলে তার শরীর খারাপ। তবে অভ্যস্ত হয়ে গেলে ভিন্ন কথা। খাবারের মধ্যে ছোট পোকা, চুল পাওয়া তো নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। ক্যান্টিন মালিককে অভিযোগ করলে এড়িয়ে যান। পরেরবার আর এমন হবে না আশ্বাস দিলেও উন্নতি দেখি না। হল প্রশাসন এসব জেনেও যেন না জানার ভান করেন”।

কানিজ ফাতেমা নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “সমস্যাটা শুধু দামের নয়, এটা প্রশাসনের দায়িত্বের বিষয়। ডাকসু নির্বাচনের আগে ও পরে খাবারের মান নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতিটি ক্যান্টিনে নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা জরুরি”।

দাম বাড়ায় কমছে মান

অন্যদিকে ক্যান্টিন পরিচালনাকারীরা বলছেন, নির্ধারিত কম দামে খাবার সরবরাহ করতে গিয়ে মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে খাবারের মূল্য সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় তারা আর্থিক চাপে রয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ক্যান্টিন মালিক জমির উদ্দিন বলেন, “বর্তমান বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, সেখানে ভালো খাওয়াতে গেলে আমার আর লাভ থাকে না। খাবারের দাম বাড়ানো গেলে আরো ভালো খাওয়ানো সম্ভব”।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক কাজী রেজাউল করিম বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিন বা মেসে যে খাবার খায়, তা তাদের জন্য ব্যালেন্সড ফুড না। ছোট্ট এক পিস মুরগির মাংস বা মাছে তেমন খাদ্য উপাদান পাওয়া সম্ভব না। আমাদের খাবারের মধ্যে কোনো ফল থাকে না, সবজি কম থাকে, রান্নায় ভালো তেল ব্যবহার করা হয় না। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেই যায়”।

ভর্তুকি বাড়ানোর দাবি

সমাধান হিসেবে শিক্ষার্থীরা ভর্তুকি বৃদ্ধি, কঠোর নজরদারি এবং ক্যান্টিনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রশাসনিক তদারকি ও আর্থিক সহায়তা বাড়ালে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো খাবারের দাম ও মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, “এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনগুলোতে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফাও খাবার খেতো। এজন্য তখন ক্যান্টিন মালিকরা চাইলেও এই দামে ভালো মানের খাবার দিতে পারতো না। কিন্তু বর্তমান সময়ে খাবারের নিম্নমানের জন্য প্রশাসনের উদাসীনতা অনেকাংশেই দায়ী। ডাকসু নির্বাচনের পরে এ অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এখনো কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না”।

এ সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনগুলোর মতো বিভিন্ন হলের ডাইনিংগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে এনে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব করার দাবি জানান তিনি।

খাবারের মান নিশ্চিতকরণে ডাকসুর ভূমিকা কি এ প্রশ্ন করা হয় ডাকসুর কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমাকে।

তিনি বলেন, “আমরা ডাকসুর পক্ষ থেকে নিয়মিত বিভিন্ন ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়ায় তদারকি করে যাচ্ছি। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে যাতে ক্যান্টিনগুলোতে একটা ভর্তুকি দেওয়া হয় সেই দাবিও জানিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসন এ বিষয়ে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি”। 

সালমা বলেন, “ডাকসু ভিপিসহ কয়েকজন সম্পাদক টিসিবির সাথে কথা বলে ক্যান্টিনগুলোর জন্য টিসিবি থেকে পণ্য কেনার প্রাথমিক একটা পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পরে টিসিবি আর তাতে সায় দেয়নি। এজন্য এ পরিকল্পনাও আর বেশি আগায়নি”।

আশ্বাস প্রশাসনের

এ বিষয়ে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বলেন, “ভর্তুকি দিলে খাদ্যের মান কিছুটা উন্নত হতে পারে। তবে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে গ্রহণযোগ্য মান বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ”।

তিনি আরও জানান, “শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে আমরা নিয়মিত আলোচনা করছি এবং খাবারের মান উন্নয়নে কাজ চলছে”।

প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ও স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, “বিভিন্ন হলে অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। কিছু হলে সীমিত ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে”।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, “টিসিবি থেকে পণ্য কিনতে পারলে আমাদের আর খাবারে ভর্তুকি দেওয়া লাগবে না। তখন এই দামেই মানসম্মত খাবার পাওয়া যাবে। এটা নিয়ে আমরা পরবর্তী প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে আলাপ করবো। তারপর আমরা এটা বলতে পারবো”।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা