মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১১ এএম
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৩৮ এএম
একযোগে শিক্ষকদের পদত্যাগে প্রশাসনিক সংকটে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নজিরবিহীনভাবে প্রক্টোরিয়াল বডি, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, হাউস টিউটর ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানসহ প্রায় ২০ জন শিক্ষক তাদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে একযোগে পদত্যাগ করেছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যত প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নায়লা ইয়াসমিন রবিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল যোগাযোগ মাধ্যমে পৃথক বার্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা তাদের পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর মো. রাকিবুল আলম, সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সাবাব জুলফিকার, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা তনুজা ইয়াসমিন, প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) মাজহারুল হক জুবায়েদ ও রোকসানা পারভীন।
এর পাশাপাশি সহকারী প্রক্টর হিসেবে মো. মসীহ ইবনে ইয়াছিন আদন, মো. সোহানুল ইসলাম ও আতিয়া ফাইরুজ এবং হাউস টিউটর হিসেবে সুরাইয়া খানম মীম, ওয়াহিদ কায়সার ও মো. আসাদুজ্জামান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন।
পদত্যাগকারী শিক্ষকরা তাদের বার্তায় জানিয়েছেন, তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবেন।
ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রাকিবুল আলম বলেন, কিছু অনিবার্য কারণে তিনি দায়িত্ব ছাড়লেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে।
একইভাবে তনুজা ইয়াসমিন ও মাজহারুল হক জুবায়েদও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বার্তা না দিলেও তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব ত্যাগ করেছেন।
অন্য পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির, রোভার স্কাউট ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ, ক্রীড়া ইনচার্জ মো. এবাদুর রহমান এবং ছাত্রী হলের হাউস টিউটর মো. সাইফুল ইসলাম।
রেজিস্ট্রার নায়লা ইয়াসমিন জানান, বিভিন্ন অসন্তোষ ও ক্ষোভের কারণে এ গণ-পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। তবে বিস্তারিত জানতে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একযোগে এত সংখ্যক শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যদিও শিক্ষকরা ‘ব্যক্তিগত ও অনিবার্য কারণের’ কথা উল্লেখ করেছেন, তবুও এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ ও প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়।