প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৮ এএম
চলতি বছরের ‘মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬’ শুরু হচ্ছে আজ। ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের ‘মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬’ শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। এ পরীক্ষায় দেশের সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। গত বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন, সে হিসেবে এ বছর পরীক্ষার্থী কমেছে ৭১ হাজার ৬২৬ জন।
সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন মঙ্গলবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ‘বাংলা প্রথম পত্র’, দাখিলে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং ভোকেশনালে ‘বাংলা-২’ বিষয়ের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ পরীক্ষা। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত এবং পরে ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্র জানায়, এবার মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড থেকে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।
পরীক্ষার কাঠামো অনুযায়ী প্রতিটি বিষয়ে প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক অংশের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যতীত)। বহুনির্বাচনী অংশের জন্য সময় ৩০ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই প্রবেশপত্র সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। এছাড়া প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বহুনির্বাচনী, সৃজনশীল এবং ব্যবহারিকÑ এই তিন অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
নকল ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা আয়োজনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি
এদিকে নকল ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা আয়োজন করতে সকল প্রস্তুতি নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। তবে অন্যান্য বছর পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকলেও এবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান।
সব পাবলিক পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জানুয়ারিতে কোর্স শুরু করে ডিসেম্বরে কোর্স শেষ হয়। কোর্স শেষ করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যদি ডিসেম্বরে কোর্স শেষ হয়, তাহলে তাদের জীবন থেকে এক বছর নষ্ট করা হবে কেন?
প্রশ্ন ফাঁসের শঙ্কা থেকে অতীতে পাবলিক পরীক্ষাকালীন সময়ে বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকলেও এবার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কোচিং সেন্টারগুলো বৈধ প্রতিষ্ঠান নয়, সরকারের নিবন্ধিত নয়। এগুলো আমরা রিকগনাইজ করি না।
এহছানুল হক মিলন ২০০১-০৬ সালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে নকল ধরতে বিভিন্ন জায়গায় হেলিকপ্টার করে অভিযান চালিয়েছিলেন। এবার এমন কোনো পরিকল্পনা আছে কি নাÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এবার হাতে মোবাইল আছে। এটি কি হেলিকপ্টারের চেয়ে বেশি নয়? সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।