ডেস্ক রিপোর্ট, ফিনল্যান্ড
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ২১:২৬ পিএম
"বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে সমকালীন ভাবনা" শীর্ষক এক ভার্চুয়াল উন্মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ইন ফিনল্যান্ড (বিডিপিএফ)। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।
বাংলা দিনপুঞ্জির নতুন বছর ১৪৩২ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে "বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে সমকালীন ভাবনা" শীর্ষক এক ভার্চুয়াল উন্মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ইন ফিনল্যান্ড (বিডিপিএফ)।
ফিনল্যান্ড সময় শনিবার দুপুর ১২টা এবং বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনার শুরুতে আমন্ত্রিত সম্মানিত আলোচকবৃন্দ ও উপস্থিত জ্ঞানপিপাসু ও দেশ- প্রেমিক দর্শক- শ্রোতাদের নান্দনিক আড্ডায় স্বাগতম জানানোর পাশাপাশি নবনির্বাচিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় তারেক রহমানকে বিডিপিএফ-এর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাই (সদস্য প্রোগ্রাম) এবং অধ্যাপক ড. জি এম আতিকুর রহমান (সদস্য সচিব)। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন বিডিপিএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুজুরে মওলা।
আলোচ্য বিষয় 'বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে সমকালীন ভাবনা" নিয়ে আজকের আলোচনায় স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবাইদুল ইসলাম, উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইতিহাস ও দর্শনের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, এবং অধ্যাপক ড. মোঃ ফরিদুল ইসলাম, উপাচার্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
বিডিপিএফ এর নান্দনিক আড্ডায় প্রশ্ন ও উত্তর পর্বে দিয়ে সাজানো আলোচনায় আলোচকগণ যথাযথ বিষয়বস্তু নির্ধারণের মাধ্যমে মেধা নির্ভর ও দূরদর্শী আলোচনা উপস্থাপন করেছেন, যা নিচের স্তবকগুলি পাঠ করলে সহজেই অনুমেয়। যেমন প্রশ্ন-উত্তর পর্বে
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও দর্শন শাস্ত্রের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান সমকালীন শিক্ষা নিয়ে বলেন, আধুনিক বর্তমান জগতে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার মত শিক্ষার পাশাপাশি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার মাধ্যমে ইউনিফাইড শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা অতি জরুরী। এছাড়াও তিনি বলেছেন, যে শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিধা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে সেখানে আত্মা ও চিন্তার মেলবন্ধন প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবাইদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা হবে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়া। অধ্যাপক ডক্টর মোঃ আব্দুল হাই এর প্রশ্ন-সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতি আছে কি এবং বিডিপিএফ এর নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ ড. মো. সানাউল হক এর প্রশ্ন- বর্তমান উচ্চ শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে নেবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যেক শিক্ষকের অবশ্যই উচ্চতর ডিগ্রী থাকা উচিত?
উত্তরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহার করার নিয়ে আলোচনা খুব স্বীকৃত যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুজুরি কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বলে আমি বিশ্বাস করি এবং উচ্চ পর্যায়ে শিক্ষকদের ডক্টোরাল ডিগ্রী থাকা উচিত ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সিদ্ধান্ত নেবেন এবং সার্কুলার অর্থনীতি পাঠ্যসূচিতে সংযুক্ত করা নিয়ে আলোচনার কথা বলেন।
এছাড়াও বিডিপিএফ এর নির্বাহী কমিটির শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান সদস্য অধ্যাপক ডক্টর আনিসুর রহমান ফারুক এর প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে এসডিজি-র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে অবশ্যই বাংলাদেশের সরকার' ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে 'Joint Research and Student Exchange Program'-এর কথা ভাবছেন এবং প্রয়োজনে বিডিপিএফ-এর এর সহযোগিতা কামনা করেন।
বাংলাদেশে আলোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণ করেন বিজ্ঞানী, শিক্ষক, গবেষক, সমাজকর্মী, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা।
উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন- অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান, অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ড. নূরুল আলম, অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান, জেষ্ঠ্য গবেষক ড. কামরুল হোসেন, ফারুক, অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান সরকার জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. সুনিল কুণ্ডু, ইউআইটিএস-এর অধ্যাপক ড. ইশতিয়ার আরিফ, অধ্যাপক ড. কায়সার আলি, ড. শের- ই- খোদা, অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান, গবেষক ড. জুলিয়াস ফ্রান্সিস গোমেজ, গবেষক ড. এ কে এম সাইফুল্লাহ, গবেষক ড. সানাউল হক, গবেষক ড. শাকের আহমেদ, গবেষক ড. মীর সালাম, ড. মো. ফেরদৌস লিটন খাঁন, ড.শাহরিয়ার মাহমুদ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক যথাক্রমে ড. মো. আবুল হাশেম, এবং ড. আহমদ খায়রুল হাসান, গবেষক লাবনি খাতুন, অধ্যক্ষ মো. আব্দুল মান্নান, সফটওয়্যার প্রোকৌশলী নূরুল হুদা রবিন ওন্টোপ্রেনার মো. নাহিদুল ইসলাম ও এহসানুল হক, সাংবাদিক মনোয়ারা বেগম মনি, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিজেভি স্টুটবার্গ এবং উদ্যোক্তা ও গবেষক ষক মো. আব্দুর রহমান (রাজু)।
বক্তারা প্রাণবন্ত আলোচনায় সম্মিলিতভাবে মত দেন, শিক্ষা একটি রাষ্ট্রের অঙ্গ নয় বরং একটি ভিত্তিস্বরূপ। তাই শিক্ষার সঠিক সংস্কারের সাথে এবং নতুন সার্কুলার অর্থনীতির পাঠদান ও এক্সপার্টদের সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় কাজে লাগানো ছাড়া জাতিকে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।