প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০১ পিএম
টিএসসির অডিটোরিয়ামে শনিবার সকালে ঢাকা ইউনিভার্সিটির কেমিস্ট্রি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘৫ম বার্ষিক সাধারণ সভা ও পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সময় এসেছে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও প্রধান কাজ জ্ঞান সৃজন। কি পড়ানো হবে সেটা দ্বিতীয় কাজ। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সামনে প্রস্তাব করছি তারা যদি এটিকে গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিণত করার মাস্টারপ্ল্যান নিতে পারেন, তাহলে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।
টিএসসির অডিটোরিয়ামে ঢাকা ইউনিভার্সিটির কেমিস্ট্রি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘৫ম বার্ষিক সাধারণ সভা ও পুনর্মিলনী’তে শনিবার সকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও ঢাকা ইউনিভার্সিটির কেমিস্ট্রি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ, ঢাবির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোফাজ্জল হোসাইন, কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী প্রমুখ।
অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, একটি পতিত সরকার শিক্ষাকে ধ্বংস করার সব ধরনের পায়তারা করে গেছে। আপনারা বিগত ১৭ বছরের সঙ্গে এর আগের সময়ের বিজ্ঞান শিক্ষার আনুপাতিক হার দেখেন এবং তাহলে দেখবেন সেটা অনেক কমে গেছে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েছে। বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি অনীহা এর অন্যতম কারণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ আরও বলেন, আমরা শিক্ষককে সম্মান করছি না। শিক্ষকের সঙ্গে ন্যায্যতার সম্পর্ক করছি না। ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক ক্রমশ ভেঙে যাচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে মূল্যবোধ শেখানোর প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কার্যকর নেই।
অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পরে রাজনৈতিক দলের ছাত্র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দিচ্ছেন। এটা কখনো কাম্য নয়। আমি আশা করবো বর্তমান উপাচার্য এই বিষয়টি দেখবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, আমরা বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করিনা, আমরা সংহতির রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমরা সংহতি চাই, প্রগতি চাই, অগ্রগতি চাই কিন্তু বিভাজন চাই না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জীবনের সঙ্গে রসায়ন জড়িত, রসায়ন ছাড়া দুনিয়া চলে না। এই বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থী ছিলেন অধ্যাপক ড. মোকাররক হোসেন, কৃতি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, ড. আবুল হুসসাম। আমি আজকে তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।
তিনি আরও বলেন, অ্যালামনাইরা বিভাগের প্রাণ। তারা ভালো থাকলে বিভাগ ভালো থাকবে। আমরা ইউজিসি এবং বিভাগের টাকায় চলি। অ্যালামনাইরা যদি এগিয়ে আসে তাহলে বিভাগ আরও উন্নত হবে, গবেষণার সুযোগ বাড়বে।
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, এখানে আসলে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রাইম টাইমের কথা মনে পড়বে। আমরা আশা করি সামনের দিনগুলোতেও এমন আরও আয়োজন হবে এবং আপনারা সেগুলোতে অংশগ্রহণ করবেন।
কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, বিগত সরকার দেশকে ধ্বংস করেছে, সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাকে পচিয়ে ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, “জাতির একজন প্রবীণ সদস্য হিসেবে এতটুকু অনুভব করি–দেশের অবস্থা খারাপ কিন্তু শিক্ষার অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ।”