ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৪১ পিএম
বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ৫ দফা দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে মধুর ক্যান্টিনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন বিসিএস প্রত্যাশীরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ৫ দফা দাবি জানিয়েছেন বিসিএস প্রত্যাশীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার বিকালে এসব দাবি তুলে ধরেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ৪৫তম বিসিএস প্রত্যাশী একরামুল হক বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বিসিএস নিয়োগে বৈষম্য দূর করে মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। কিন্তু আন্দোলনের পরও বাস্তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত নিয়োগের নামে তাড়াহুড়ো করে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত বিসিএস প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এতে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং নিয়োগ ব্যবস্থায় আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সংবিধানে সমান সুযোগ ও আইনের দৃষ্টিতে সমতার কথা বলা থাকলেও বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তা মানা হচ্ছে না। একেকটি বিসিএসে একেক ধরনের নীতি অনুসরণ করায় প্রার্থীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ৪৪তম বিসিএসে রিপিট ক্যাডার বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন, পরবর্তী ৪৫তম বিসিএসে একই বিষয়ে অনীহা দেখা যাচ্ছে, যা বেকার প্রার্থীদের সঙ্গে উপহাসের সামিল। এছাড়া বিভিন্ন বিসিএসে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগে অসঙ্গতি এবং অনেক ক্ষেত্রে পদ শূন্য রাখার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।
একরামুল হক আরও বলেন, যোগ্য প্রার্থীর অভাবে পদ ফাঁকা রাখা এক ধরনের প্রহসন। যেখানে লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণ চাকরির অপেক্ষায়, সেখানে পদসংখ্যা না বাড়িয়ে বরং সংকোচনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-চূড়ান্ত ফলাফলে রিপিট ক্যাডার সুপারিশ বন্ধ করা, প্রতিটি পদের বিপরীতে পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রার্থীকে ভাইভায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া, নন-ক্যাডার পদ বৃদ্ধি, ২০২৩ সালের নন-ক্যাডার বিধি বাতিল করে ২০১৪ সালের বিধিমালা পুনর্বহাল এবং লিখিত পরীক্ষার আগে যৌক্তিক সময় প্রদান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এসব দাবি মেনে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।