ঢাবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৩২ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদ আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বিপুল লোকসমাগমে শেষ হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদ আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এ শোভাযাত্রায় অংশ নেন নানা বয়স ও শ্রেণি পেশার মানুষ।
এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
শোভাযাত্রাটি রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি হয়ে পুনরায় চারুকলায় এসে এ আয়োজন শেষ হয়।
ঢাবির চারুকলা অনুষদ থেকে বের হওয়া এই শোভাযাত্রায় ছিল রঙিন মুখোশ, বিশাল মোটিফ ও লোকজ শিল্পের বহুমাত্রিক উপস্থাপনা। অংশগ্রহণকারীদের ঢলে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে শোভাযাত্রা ঘিরে নেওয়া হয় কঠোর ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ছিল।
এবারের শোভাযাত্রার একেবারে সামনে অংশ নেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে বাড়তি উচ্ছ্বাস।
শোভাযাত্রার শুরুতেই জাতীয় পতাকা হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। মূল ব্যানার নিয়ে শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট এবং শিক্ষক-কর্মচারীরা এই উৎসবে শামিল হন।
শোভাযাত্রায় পাঁচটি প্রধান মোটিফ বা প্রতীক স্থান পেয়েছে, যার প্রতিটি বহন করছে বিশেষ বার্তা। নতুন সূচনা ও অন্ধকারের বিনাশ হিসেবে থাকছে ‘মোরগ’, যা মূলত গণতান্ত্রিক ভোরের প্রতীক। লোকজ ঐতিহ্য ও শক্তির প্রতীক হিসেবে ‘হাতি’, গ্রামীণ স্মৃতি জাগানিয়া টেপা আকৃতির ‘ঘোড়া’, শান্তি ও সহাবস্থানের বারতায় ‘পায়রা’ এবং বাউল সংস্কৃতির সংহতি ও তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদ স্বরূপ ‘দোতারা’কে মোটিফ হিসেবে রাখা হয়েছে।
এছাড়া ছিল ১৫০ ফুট দীর্ঘ স্ক্রল পেইন্টিং এবং বাঘ, মাছ, ময়ূর ও হরিণ শাবকের প্রতিকৃতি শোভাযাত্রাকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এবার পাঁচটি পটচিত্র স্থান পেয়েছে। এসব পটে সুন্দরবনের ‘দেবী বনবিবি’, সম্রাট আকবর, বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গাজীর পট এবং মনসামঙ্গলের ‘বেহুলা’র চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।