রাজিব রায়হান, জাবি
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৮ এএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি
দেশের একমাত্র ‘পূর্ণাঙ্গ আবাসিক’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের জন্য সবার কাছেই অত্যন্ত প্রিয়। ঘন সবুজ বনানী আর শীতের সকালে লেকজুড়ে লাল শাপলার মাঝে অতিথি পাখিদের কলতান এই ক্যাম্পাসকে এক মায়াবী রূপ দেয়। সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গাটিতে এই ক্যাম্পাসের সুখ্যাতি সর্বজনবিদিত। এখানকার সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু করে প্রতিটি কোনায় সারা বছরই নাটক, গান আর উৎসবের আমেজ থাকে। শিক্ষার পাশাপাশি মুক্তচিন্তা এবং সৃজনশীল চর্চায় এই বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য। তবে এবার এই ক্যাম্পাসে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত তিন বছরের ভর্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় পাওয়া যায়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে দ্বিতীয় ধাপে মেধাতালিকা প্রকাশ ও ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও ৭০৪টি আসন ফাঁকা রয়েছে। এরপর গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রশাসন। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল ৫৫০টি আসন ফাঁকা। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আসন ফাঁকা ছিল ৬১৯টি।
বিশ্লেষকদের মতে, জিপিএ এবং বিষয়ভিত্তিক শর্তের বেড়াজালে প্রতিবছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ হারাচ্ছে হাজারো শিক্ষার্থী। শুধু ভর্তি হওয়াই নয়, পছন্দের বিষয় পাওয়ার ক্ষেত্রেও জুড়ে দেওয়া হচ্ছে নানান শর্ত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিফটভিত্তিক পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি করছে। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী সুযোগ পেয়েও আসন ছেড়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাওয়ায় জাবিকে মেধা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জাবি ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইমন বলেন, ভর্তি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, মাইগ্রেশন জটিলতা এবং সেকেলে পাঠ্যসূচির কারণেই মূলত শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারাচ্ছে। আধুনিক বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে উৎপাদনশীল বিভাগের সংখ্যা বাড়ানো এবং দ্রুত কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করা অপরিহার্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, আসলে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে বিষয়টি তেমন নয়। এবার জাবির পরীক্ষা সবার আগে হওয়ায় গণবিজ্ঞপ্তিতে এর বড় প্রভাব পড়েছে। মেধাবীরা একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ায় নিজেদের পছন্দের ক্যাম্পাস বেছে নিচ্ছে। এ ছাড়া ভাইভা পদ্ধতি না থাকায় অনলাইনে সহজেই আসন নিশ্চিত করা যাচ্ছে। ফলে অনেকে প্রাথমিকভাবে সিট ধরে রাখলেও পরে অন্য কোথাও চলে যাচ্ছে।
জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু ওবায়দা ওসামা বলেন, এটা খুব চিন্তার বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আমরা ধরে রাখতে পারি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, সবার আগে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ায় এ বছরে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ের মেধাবীরা অংশগ্রহণ করেছিল। যদিও একাধিক জায়গায় সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীরা পছন্দমতো প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ায় কিছু আসন খালি হয়েছে, তবে আমাদের মূল লক্ষ্যই ছিল যোগ্যতমদের আকৃষ্ট করা। উল্লেখ্য, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমরা অনেক দ্রুততম সময়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসছি।