নোবিপ্রবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:২০ পিএম
আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫১ পিএম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যমুখী বাগান, বামে ইনসেটে বাগানে ছবি তুলছেন দর্শনার্থীরা। কোলাজ; প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নোয়াখালীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে এখন দৃষ্টি কাড়ছে সূর্যমুখী ফুলের মনোমুগ্ধকর বাগান। জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা এই ক্যাম্পাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সোনালি রঙের সূর্যমুখী ফুল।
ক্যাম্পাসজুড়ে ফুটে থাকা সূর্যমুখীগুলো যেন সূর্যের আলো ধারণ করে চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রাণের উচ্ছ্বাস। ভোরের আলোয় সূর্যের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে থাকা এই ফুলগুলো শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মনে এনে দিচ্ছে এক অনাবিল প্রশান্তি।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আর্পণ বলেন, “ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সময় গাছগুলো ছিল ছোট। ক্যাম্পাসে ফিরে এসে এমন হলুদ ফুলের বাগান দেখে মনটা ভরে গেছে। বাড়ি থেকে ফেরার যে মনখারাপ থাকে, তা অনেকটাই দূর হয়ে যায়”।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবা মিলি বলেন, “পড়াশোনার চাপের মধ্যে এই জায়গাটি আমাদের জন্য এক ধরনের প্রশান্তির উৎস। প্রতি মৌসুমে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়”।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে এই ফুলবাগান। প্রতিদিনই এখানে বাড়ছে ভিড়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্যাম্পাসটি পরিণত হচ্ছে মানুষের মিলনমেলায়।
নোয়াখালী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী নীলা বলেন, “নোবিপ্রবি আমাদের জন্য সবসময়ই আকর্ষণীয় একটি স্থান। সূর্যমুখীর বাগান এটিকে আরও সুন্দর করে তুলেছে”।
স্থানীয় দর্শনার্থী রবিন জানান, “আমার বাড়ি ক্যাম্পাসের পাশেই। বন্ধু ও পরিবার নিয়ে প্রায়ই এখানে ঘুরতে আসি। সূর্যমুখী ফুলের বাগান এখন প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ছবি তুলে স্মৃতি হিসেবে রেখে দিই”।

অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারিয়ান তাহরীম বলেন, “উপকূলীয় এই অঞ্চলে লবনাক্ত মাটির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন উদ্ভিদ বিশেষ করে নানান প্রজাতির ফুলের গাছের সংখ্যা বেশ অপ্রতুল। তবে এর মাঝে সূর্যমুখী ফুল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে”।
তিনি বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি এমন একটি পরিবেশ তাদের সৃজনশীলতা ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক। সুর্যমুখী ফুল বিশ্ববিদ্যালয়সহ এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাইরের অনেক দর্শনার্থীরাও সূর্যমুখী বাগানের দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে আসছেন। সর্বোপরি নোবিপ্রবির জন্য সূর্যমুখী ফুলের বাগানকে সৌন্দর্যবর্ধন, পর্যটক বান্ধব, আয় উৎস, শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তিদায়ক হিসেবে দেখছি”।

শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি পরিকল্পিতভাবে এমন ফুলের বাগানসহ ক্যাম্পাসের অন্যান্য স্থানগুলোর পরিচর্যা অব্যাহত রাখে, তবে নোবিপ্রবি ভবিষ্যতে নোয়াখালীর অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

সূর্যের দিকে মুখ তুলে থাকা সূর্যমুখী ফুল যেন শিখিয়ে দেয়—আলো আর আশার দিকেই তাকিয়ে থাকতে হয় সবসময়। প্রকৃতির এই অনন্য উপহার নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে এনে দিয়েছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য, আর সূর্যমুখীর হাসিতে প্রতিদিনই রঙিন হয়ে উঠছে পুরো প্রাঙ্গণ।