ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০১ পিএম
প্রতীকী ছবি
ঢাকার হাজারীবাগের মনেস্বর রোডের ভাড়া বাসায় ‘বিষাক্ত দ্রব্য পানে’ সীমান্ত (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি ঢাবির রসায়ন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টা নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার এসআই জাহিদ হোসেন বলেন, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে আমরা খবর পেয়ে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রাথমিকভাবে চিকিৎসক জানিয়েছেন, নিহত শিক্ষার্থী ছারপোকা মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। হাজারীবাগের বাসায় দুজন মিলে একটি রুমে ভাড়া থাকতো। ঘটনার সময় সীমান্তের রমমেট বাইরে ছিল। পরে সীমান্তের স্বজনরাসহ দরজা ভেঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, করোনায় মায়ের মৃত্যু, বোন প্রতিবন্ধি। এসব বিষয় নিয়ে হতাশাগ্রস্ত থেকে ছাড়পোকা মারার ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিহত শিক্ষার্থীর বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম সদরুল আমিন। বর্তমানে হাজারীবাগের মনেস্বর রোডের একটি বাসায় সাবলেট হিসেবে বসবাস করতেন।
নিহত শিক্ষার্থীর চাচা রুহুল আমিন বলেন, "রাত সাড়ে ১২টার দিকে সীমান্তের বন্ধু বাইরে থেকে এসে দরজা বন্ধ পায়। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করে সাড়াশব্দ না পেয়ে আমাকে ফোন দেয়।
“এরপর বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে সীমান্তকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পাই। দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে জানায়।"
রুহুল আমিন আরও বলেন, “অচেতন অবস্থায় সীমান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মুখ থেকে বিষাক্ত দ্রব্যের গন্ধ বেরোচ্ছিল। এতে আমরা ধারণা করেছি ওই বিষাক্ত দ্রব্য খেয়েই সীমান্ত আত্মহত্যা করেছে। তবে কেন সে এই কাজটি করেছে তা আমরা কিছুই জানি না।”