বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:২১ পিএম
জবি) গণিত বিভাগের সেমিনার কক্ষে ছাদের পলেস্তারা ধ্বসে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনার পরদিন হেলমেট পরে পরীক্ষায় বসেন বিভাগটির ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম এবং নয়ন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সেমিনার কক্ষে ছাদের পলেস্তারা ধ্বসে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনার পরদিন হেলমেট পরে পরীক্ষায় বসেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম এবং নয়ন বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ হিসেবে হেলমেট পরে মিডটার্ম পরীক্ষায় অংশ নেন। হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে এমন প্রতীকী ও আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ ভবনই দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সম্প্রতি সেমিনার কক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন তারা।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান নয়ন বলেন, “ক্লাসে বসে থাকাও এখন ভয় লাগে। কখন ছাদ থেকে কি পড়ে মাথায় লাগে, সেই দুশ্চিন্তা সবসময় কাজ করে। তাই হেলমেট পরে ক্লাস করছি, এটা এক ধরনের প্রতিবাদও”।
আরেক শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, “এভাবে পড়াশোনা করা সম্ভব না। আমরা নিরাপদ পরিবেশ চাই। প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে”।
আগের দিনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা ফিরছে না। তারা বলছেন, দৃশ্যমান ও দ্রুত পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটওয়ারী জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর অনুসন্ধান চলছে। আজকের মধ্যেই আমরা রিপোর্ট প্রকাশ করবো।
তিনি আরও জানান, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পুরাতন ভবন থেকে ফলস সিলিং খুলে ফেলছি। ফলে যে ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ার সম্ভাবনা আছে তা দৃশ্যমান হয়।