পিয়াল হাসান রিয়াজ, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৭:১০ পিএম
আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৭:৩৯ পিএম
নবীনগর সরকারি কলেজের প্রধান ফটক। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
টেস্ট পরীক্ষায় পাশ করানোর নিশ্চয়তা-আর সেই প্রলোভনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া লাখ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন গোপনে চলা এই ভয়ংকর অর্থ বাণিজ্য অবশেষে ফাঁস হয়ে গেল। প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজে শুরু হয় তোলপাড়। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার অভিযুক্ত অফিস সহায়ক রাজীব আহামেদকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই ঘটনায় নৈশ প্রহরী শামীম মিয়াকে শোকজ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
প্রতদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় বুধবার সংবাদ আকারে এ ঘটনা প্রকাশের পরপরই উপজেলাজুড়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ‘পাশের গ্যারান্টি’ সিন্ডিকেট।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দেয় ক্ষোভ ও উদ্বেগ। চাপের মুখে অবশেষে নড়েচড়ে বসেন কলেজ প্রশাসন।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কলেজের ভেতরে গড়ে ওঠে একটি গোপন সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট টার্গেট করত এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের। তাদের দেওয়া হত ভয়ংকর প্রলোভন- “খাতায় কিছু না লিখলেও সমস্যা নেই, টেস্টে পাশ নিশ্চিত, আর ফরম পূরণে থাকবে না কোনো বাধা।”
প্রথমে বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও, একের পর এক শিক্ষার্থী এই ফাঁদে পা দেয়। গোপনে শুরু হয় যোগাযোগ, তারপর দর-কষাকষি। কেউ দেয় ১০ হাজার, কেউ ২০ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে নেওয়া হয় আরও বেশি টাকা।
অভিযোগ উঠেছে, এভাবে কয়েক লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অফিস সহায়ক রাজীব আহামেদ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগ স্থাপন করতেন। পরে তাদের নিয়ে যাওয়া হতো নৈশ প্রহরী শামীম মিয়ার কাছে। সেখানেই নির্ধারণ করা হতো টাকার অঙ্ক এবং দেওয়া হতো পাশ করানোর চূড়ান্ত আশ্বাস। পুরো বিষয়টি চলত গোপনে, যেন কেউ টের না পায়।
ঘটনাটি দীর্ঘদিন আড়ালে থাকলেও সংবাদ প্রকাশের পর পুরো চিত্র সামনে চলে আসে। এরপরই শুরু হয় প্রশাসনিক তৎপরতা। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজের অধ্যক্ষ এটিএম রেজাউল করিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে অফিস সহায়ক রাজীব আহামেদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং নৈশ প্রহরী শামীম মিয়াকে শোকজ করা হয়েছে।” তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরও থামেনি আলোচনা-সমালোচনা। শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সিন্ডিকেট গড়ে ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।