× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কয়রায় জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

কয়রা (খুলনা) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৫:৩৫ পিএম

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৫:৩৮ পিএম

খুলনার কয়রা উপজেলায় গাজী আব্দুল জব্বার হাইস্কুল এন্ড কলেজের পাঠদান চলছে পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ভবনে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

খুলনার কয়রা উপজেলায় গাজী আব্দুল জব্বার হাইস্কুল এন্ড কলেজের পাঠদান চলছে পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ভবনে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

খুলনা জেলার সুন্দরবন উপকূলবর্তী কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের গাজী আব্দুল জব্বার হাইস্কুল এন্ড কলেজের পাঠদান চলছে পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ভবনে। দীর্ঘ বছর ধরে ভবনটির বেহাল দশা। ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষকরা। এই ঝুঁকি ও আতঙ্ক  নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

শ্রেণিকক্ষের ছাদ ও পিলারে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া, রড বেরিয়ে আসা এবং বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি পড়ার মত সমস্যা। ফলে শিক্ষার্থীরা সবসময়  ভবন ধসের আতঙ্কে থাকে, যা তাদের পড়াশোনা-মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়। 

উপকূলের এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে দীর্ঘবছর উপকূলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট এর সহযোগিতায় ২০০০ সালে একাডেমিক ভবনটি নির্মাণ হয়। কিন্তু আয়লা, ইয়াস, রিমাল, ঘূর্ণিঝড়ে ভেড়িবার্ধ প্লাবিত হয়ে বারবার নোনা পানিতে দীর্ঘ সময় ডুবে থাকার কারণে ভবনটি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়। পরিত্যক্ত ঘোষণা করা ভবনটির জানালা, দরজা, ওয়াল কিছুই নাই, আছে শুধু পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ বেহাল দশার খুটি ভাঙ্গা ভবনটি। 

জানা গেছে, বিভিন্ন শ্রেণী কক্ষের ছাদ ভেঙ্গে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী আহতও হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, এই বিদ্যালয়ে এক সময় লেখাপড়ার মান অনেক ভালো ছিলো। কিন্তু বেশ কয়েক বছর স্কুলের মূল ভবন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে আছেন  শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ফলে কখন ভেঙ্গে এই ভয়ে ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকরা স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

জরুরী একটা ভবন নির্মাণ করা হলে পুনরায় স্কুলের লেখা পড়ার মান ফিরেও আনা সম্ভব।

উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে নতুন ভবনের দাবিতে অভিভাবক ও শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানালেও কোনো সমাধান মিলছে না। 

বিদ্যালয়ের শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, ঝুকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে পাঠদানে মন বসে না। কারণ পরিবেশের সঙ্গে পাঠদান  কার্যক্রমের নিবিড় সম্পর্ক আছে। টিনসেড এ অল্প জায়গায় অনেক ছাত্রছাত্রী ক্লাস নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মনোরম পরিবেশে পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশের জন্য একটা বড় ভবন প্রয়োজন।

কাজী আব্দুল জব্বার স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল সাইফুল হায়দার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, শিক্ষার মান উন্নত নিশ্চিত করতে জরাজীর্ণ এই ভবন দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন। স্কুল এন্ড কলেজের মূল ভবনটি এখন ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে কয়েকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সুফল মিলছে না।

কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিদ্যালয়টির মূল ভবন অনেক জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। নতুন ভবন আশু প্রয়োজন। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে চেষ্টা করছি নতুন একটা ভবন বরাদ্দের জন্য। 

খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে পাঠদানের জন্য প্রথম প্রয়োজন মনোরম পরিবেশে। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ-বিষয়ে কথা বলেছি, খুব তাড়াতাড়ি এখানে স্কুলের কাজ ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।”

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা