বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৫:১৬ পিএম
আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৫:১৬ পিএম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দুই বিভাগে এই নিয়োগ দেওয়া হয়।
জানা গেছে, শিক্ষা ছুটির বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল ইউজিসির।কিন্তু হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে তা মানা হয়নি।
অনিয়মের অভিযোগ
গত বছরের ২৯ অক্টোবর হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে বোর্ড বসে। সেখানে একটি স্থায়ী পদে ড. এস. এম খালিদ হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
একই বোর্ডে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে মো. আমিনুল ইসলাম মিলনকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ নিয়োগ ইউজিসির অনুমতি ছাড়াই দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ বোর্ডটিতে সভাপতি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
ইংরেজি বিভাগেও একইভাবে মো. আকিবুজ্জামানকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা ছুটির বিপরীতে নিয়োগ দিতে হলে পূর্বানুমতি নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ইউজিসির অবস্থান ও প্রশাসনের ব্যাখ্যা
বিভাগের ডিন ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার বলেন, ইউজিসির মৌখিক আশ্বাসে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়।পরে অনুমতি চেয়ে চিঠি দিলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষক আমিনুল ইসলাম মিলন বলেন, তিনি নিয়োগের ধরন সম্পর্কে জানতেন না। এটি প্রশাসনিক বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মিজানুর রহমান জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।তবে ইউজিসির অনুমতি পেলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বৈধতা পেত।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।ফোন ও বার্তায় কোনো উত্তর দেননি তিনি।
ইউজিসির পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি সঠিক হয়নি। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউজিসির সদস্য ড. তানজীমউদ্দিন খান বলেন, অনুমতি ছাড়া এ ধরনের নিয়োগ বিধিসম্মত নয়। অডিটে গেলে সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতা জটিলতায় পড়তে পারে বলেও তিনি জানান।