ঢাবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৬:০৫ পিএম
আটকের পরে তাকে মারধর করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে মধ্যরাতে আটক করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। আটকের পরে তাকে মারধর করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।
বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সোমবার ভোর রাতে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রলীগের পক্ষে বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্টিভিটি করেন তিনি।
তাকে আটকের বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ বলেন, “পাভেল জিয়া হলে থাকে, গত জুলাই আন্দোলনে সে হামলাকারী ছিল। ডিপার্টমেন্ট থেকেও সে বয়কটেড। এর আগে শিক্ষার্থীরা তাকে থানায় দিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, সে আর ক্যাম্পাসে আসবে না—এই শর্তে তার মা-বাবাকে নিয়ে গিয়েছিলাম।
“ইদানীং সে ক্যাম্পাসে এসে সাবেক ছাত্রলীগদের সঙ্গে ইফতার মাহফিল ও বিভিন্ন প্রোগ্রাম করেছে। পোলাপান দেখেছে, সে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের পোস্টারিংও করেছে। আজ তাকে ধরার পর ফোন চেক করার জন্য বললে, সে জানায় ফোন দেবে না। উল্টে সে রিঅ্যাক্ট করেছে। তখন পোলাপান তাকে ধরে থানায় দিয়েছে”, বলেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাভেল বলেন, “আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহেরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে। তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পেটায়। আমি কখনো কোন সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোনো পদ নেই”।
মারধরের পর তারা মোবাইল, মানিব্যাগ ও বাইকের চাবি নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন পাভেল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, “সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে (পাভেল) পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ, এজন্য ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব”।