বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৩ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ডাকসু আয়োজিত এক ‘বিক্ষোভ’ সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জীবন দিয়ে হলেও বাংলাদেশে আর ‘হাসিনাতন্ত্র’ ফিরে আসতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, কেউ যদি হাসিনা হয়ে উঠতে চায়, তাহলে আমরা আবু সাইদ হয়ে তাদের রুখে দেবো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ডাকসু আয়োজিত এক ‘বিক্ষোভ’ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। নরসিংদীসহ সারাদেশে হওয়া ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনাসমূহের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ সময় তাদের “আপোষ না সংগ্রাম—সংগ্রাম, সংগ্রাম, উই ওয়ান্ট জাস্টিস—হ্যাং দ্য রেপিস্ট, সারা বাংলায় খবর দে—ধর্ষকদের কবর দে, ধর্ষক আর স্বৈরাচার—মিলেমিশে একাকার, তারেক রহমান—ধর্ষণ করো অবসান” ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে ডাকসু ভিপি বলেন, “বাংলাদেশ আজ ভালো নাই। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে আমরা এমন একটা বাংলাদেশ চেয়েছিলাম যেখানে কোন গুম-খুন, হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি থাকবে না। নতুন যে সরকার আসবে তারা কোন দলের হবে না, বরং হবে জনগণের। কিন্তু আমরা দেখেছি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে চারটা লাশ পড়েছে। সারাদেশে মা-বোনদের ইজ্জত লুন্ঠিত হচ্ছে।
“সম্প্রতি নরসিংদির ঘটনা আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানিয়েছে। সেখানে দেখেছি কিভাবে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও, সারাদেশে ফ্যাসিবাদী উপায়ে ভিন্নমত দমন করা হচ্ছে। আমরা বেঁচে থাকতে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেবো না”।
তিনি বলেন, “আমরা দেখছি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ কোন রাজনৈতিক দল নয়। তারা একটা সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা জুলাইয়ে ২০০০ মানুষ হত্যা করেছে। খুনী হাসিনার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। তাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাকে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে”।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখছি আপনি বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। এই জুলাই প্রজন্ম কারো হুমকিকে তোয়াক্কা করে না”।
বিক্ষোভ সমাবেশে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনীম জুমা, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ এবং ক্রিয়া সম্পাদক আরমান হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।