ঢাবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫০ পিএম
শনিবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন কথা বলছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মারামারি ও হানাহানির রাজনীতি বন্ধ না হলে ছাত্র-জনতা আবারো রাস্তায় নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের পরিবারের ওপর হামলাসহ দেশব্যাপী ভিন্নমতের ভোটার ও সমর্থকদের ওপর নির্বাচনি সহিংসতা, হামলা, ভাঙচুর ও হুমকি প্রদানের প্রতিবাদে শনিবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এ কথা বলেন তিনি।
সাদিক কায়েম বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩টি লাশ পড়েছে। শতাধিক হামলার ঘটনা আমরা তালিকাভুক্ত করেছি। অথচ জুলাই বিপ্লব হয়েছিল ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে দেওয়ার জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা এখনো সেই একই মারামারি-হানাহানির রাজনীতি দেখতে পাচ্ছি।
“যারা নতুন করে দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের অবশ্যই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আমরা আবার রাজপথে নামতে বাধ্য হব। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে তা বরদাশত করা হবে না”, বলেন তিনি।
ডাকসু ভিপি, “সাদিক কায়েম বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে এবং এর মাধ্যমে জুলাইয়ের শহীদদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বলে। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে গণভোটের ফল বাস্তবায়ন করতে হবে”।
শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদেরকে আমরা আশ্বস্ত করছি- আপনারা কাউকে ভয় পাবেন না। সে যে হোক। আমরা ইতিমধ্যে ডাকসুর পক্ষ থেকে আমাদের পেইজে ঘোষণা দিয়েছি। আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক নাম্বার দিয়েছেন একটা মেইল দিয়েছি। কেউ যদি হুমকি দেয় আমাদেরকে অভিযোগ দিবেন। আমরা দেশীয় আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব”।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, “নির্বাচনের পর মূলত দুই ধরনের ঘটনা ঘটছে। একদিকে বিএনপি প্রার্থী পরাজয়ের দায় অন্য প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ওপর চাপিয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে যেখানে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, সেখানে জামায়াত ও এনসিপি প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, এমনকি নয় বছরের শিশুও হামলা থেকে রেহাই পায়নি”।
তিনি বলেন, “নির্বাচনের পর বিরোধী ও সরকারি দল তাদের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করবে-এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৬৩টি আসন পেয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত বড় বিজয়ের পরও তাৎক্ষণিকভাবে এ ধরনের হামলার চিত্র দেখা যায়নি। কিন্তু এবারের নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে”।
এস এম ফরহাদ বলেন, “এসব ঘটনায় দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য আসছে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না”।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জোটের নেতারা যেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও আক্রমণের রাজনীতি পুনরায় চালু না করেন সেই আহবানও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা নতুন করে সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চাই না এবং জুলাই আন্দোলনের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা যেন নষ্ট না হয়। হামলা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো”।