মাহরিব বিন মহসিন, ঢাবি
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৫ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌলিক ও কাঠামোগত সমস্যা সমাধানে ডাকসুর ভূমিকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর । ডাকসুর কার্যকালের চার মাস অর্থাৎ মেয়াদের এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হচ্ছে। এই সময়ে ডাকসু বিভিন্ন কর্মসূচি ও অবস্থানের কারণে একাধিকবার গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছে।
ক্যাম্পাস থেকে মাদকসেবী ও ভবঘুরে উচ্ছেদের দাবি, ডাকসুর নির্ধারিত বরাদ্দের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক ভবন ঘেরাওসহ একাধিক কর্মসূচি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে চার মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের মৌলিক ও কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে ডাকসুর ভূমিকা কতটা কার্যকর ছিলÑ এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডাকসুর কিছু উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও আবাসন সংকট, হল ব্যবস্থাপনার দুরবস্থা, পরিবহন সংকট ও ক্যাম্পাস নিরাপত্তার মতো ইস্যুতে দৃশ্যমান অগ্রগতি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।
তবে অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, চার মাসের সময়কে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট বলা যায় না।
জান্নাত নুরী নামে বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “ডাকসু ইতোমধ্যেই বেশ কিছু কাজ করেছে। তবে আমরা চাই ডাকসুর প্রতিনিধিরা যেন তাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে আরও জোর দেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা সমাধানে ডাকসুকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।”
অন্যদিকে কিছু শিক্ষার্থী মনে করেন, ডাকসুর কার্যক্রম এখনও অনেকাংশে প্রতীকী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। সুজন শিকদার নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “ডাকসু নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। চার মাসে কিছু উদ্যোগ দেখা গেলেও হলকেন্দ্রিক সমস্যা ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন ভোগান্তির জায়গাগুলোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এখনও হয়নি।”
বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী রাহাত হাসান বলেন, “ডাকসু প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলছেÑ এটা ইতিবাচক। তবে আমরা চাই এর ফলাফল ক্যাম্পাসে বাস্তবে প্রতিফলিত হোক। শুধু সভা-সেমিনার নয়, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার।”
তবে অপেক্ষাকৃত আশাবাদী কণ্ঠও রয়েছে। ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, ডাকসু নতুন দায়িত্ব পেয়েছে, তাদের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। আমি মনে করি, এখনই পুরোপুরি মূল্যায়ন না করে তাদের আরও কিছু সময় দেওয়া উচিত। ধারাবাহিকতা থাকলে ভবিষ্যতে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে ডাকসুর নেতারা বলছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তারা নানা প্রশাসনিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছেন। তবুও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে প্রশাসনের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ এবং দাবি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “আমরা আমাদের ইশতেহারের চেয়েও পাঁচ গুণ বেশি কাজ করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে এগোচ্ছি। বাজেট স্বল্পতা ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে অনেক কাজ সময়মতো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
“আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে একচুলও সরিনি। একটি সুন্দর, নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার আগ পর্যন্ত আমরা থামব না।”
ডাকসু সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত চার মাসে তাদের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যে ‘লাল বাস’ অ্যাপ প্রণয়ন, সেন্ট্রাল মসজিদের আধুনিকীকরণ কার্যক্রম, প্রতিটি হলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন, শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার বিষয়ক সেমিনার, মানসিক স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক আলোচনা সভা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকীকরণ উদ্যোগ ইত্যাদি।