প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৪০ পিএম
চলমান জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ ৩০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের জন্য ন্যায্য, স্বচ্ছ ও টেকসই জলবায়ু অর্থায়নের দাবিতে ‘ইয়ুথ কল ফর ফেয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স’ শীর্ষক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।
পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান), ফেয়ার ফাইন্যান্স বাংলাদেশ কোয়ালিশন, অক্সফাম ইন বাংলাদেশ এবং কোস্টাল এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্কের (কোয়েন) যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
‘অভিযোজন ফান্ডের টাকা নিয়া তালবাহানা চলবেনা’- শ্লোগান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের জন্য ন্যায্য, স্বচ্ছ ও টেকসই জলবায়ু অর্থায়নের জোর দাবি জানান।
জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। অথচ জলবায়ু অভিযোজন ও নিম্ন-কার্বন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তার তুলনায় প্রাপ্ত অর্থ অত্যন্ত সীমিত। প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রায় ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হলেও বর্তমানে দেশটি পাচ্ছে এর ১১ শতাংশেরও কম।
অন্যদিকে টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর জন্য মোট ঋণের ১৫ শতাংশ টেকসই অর্থায়নে বরাদ্দের নির্দেশনা দিয়েছে, যার অন্তত ২ শতাংশ সরাসরি টেকসই খাতে দিতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাংক এই নির্দেশনা যথাযথভাবে কার্যকর করছে না। ফলে পরিবেশবান্ধব ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিতভাবে বাড়ছে না- যা দেশের টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা।
কোয়েনের সভাপতি মুরাদ হোসেন রাজু বলেন, “ধনী দেশগুলোর শিল্পায়নের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু সংকটের ভয়াবহ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের দেশের মানুষ, বিশেষ করে উপকূলীয় জনগোষ্ঠী। অথচ তারা ন্যায্য অর্থায়ন ও ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত। এইবারের কপ ৩০-এ আমাদের দাবি স্পষ্ট-ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রানরে প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর উম্মে সালমা পপি বলেন, “যে সংকট বাংলাদেশের সৃষ্টি নয়, তার আর্থিক দায়ভার এই দেশের জনগণের উপর বর্তানো অন্যায়। একইভাবে টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরই ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণকৃত ঋণের ক্ষেত্রে টেকসই প্রকল্পে এবং পরিবেশবান্ধব খাতে বিতরণের শর্ত থাকলেও কিন্তু ২০২৪ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো টেকসই ও সবুজ শিল্পে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে- যা হতাশাজনক।”
ক্যাম্পেইনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি পথনাটিকা পরিবেশিত হয়, যেখানে জলবায়ু অর্থায়ন ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।