খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৪৭ পিএম
ন্যায্যতা আর মানবিকতার প্রত্যাশায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন নোমান এখন একা লড়ছেন নিজের ভবিষ্যৎ ফিরে পেতে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ করিনি। তবুও আমার সনদ স্থগিত রাখা হয়েছে। ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমি শুধু আমার শিক্ষাজীবন ফেরত চাই।’
নোমান জানান, ২০২৫ সালের ২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমপাড়ার ঘটনা কেন্দ্র করে এক শিক্ষকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়। কিন্তু পুলিশ তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে। তবুও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার স্নাতক সনদ বাতিল করে দেয় এবং মাস্টার্সের শেষ টার্মের পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়নি।
চোখভরা অশ্রু নিয়ে নোমান বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছে আমি সশরীরে ক্ষমা চেয়েছি। তিনি আমাকে ক্ষমাও করেছেন। কিন্তু প্রশাসন আমাকে ক্ষমা করেনি। আমি আজ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, অথচ আমার একটাই অপরাধ অন্যায়ের প্রতিবাদ।’
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ন্যায্য আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে প্রশাসনের একাংশ তার প্রতি প্রতিহিংসা পোষণ করছে। তিনি বলেন, ‘আমি ২০২০ সালে পাঁচ দফা ন্যায্য আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। আজ সেই আন্দোলনের পরিণতিই এই অন্যায় শাস্তি।’
নোমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক দপ্তর থেকে সম্প্রতি তাকে জানানো হয়েছে, তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না। কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। এমনকি সনদ পেতে হলে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিতে হবে। এটা এক শিক্ষার্থীর জন্য অপমানজনক।
সংবাদ সম্মেলনে নোমান তিন দফা দাবি জানান- বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, মাস্টার্সের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যদি আমার ন্যায্য দাবি না মানা হয়, আমি শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণের সামনে অনশন করব। আমার মৃত্যু হলে দায় নিতে হবে প্রশাসনকেই।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আর বলেন, ‘আমি অপরাধী নই, আমি একজন শিক্ষার্থী। আমি শুধু আবার ক্লাসে ফিরতে চাই, কলম হাতে নিতে চাই। আমার মতো আর কোনো শিক্ষার্থী যেন এমন অন্যায়ের শিকার না হয় এই আমার আবেদন।’