রাকসু নির্বাচন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:৩৯ এএম
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের প্রোজেকশন সভায় বিতরণের জন্য আনা খাবার ফেরত পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হল ও খালেদা জিয়া হলে অনুষ্ঠিত ওই পরিচিতি সভায় খাবার বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পরে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা হল ফটকে গিয়ে পাঁচ বস্তা খাবার ফেরত পাঠান। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ সূত্রে জানা গেছে, সভায় খাবার বিতরণের পরিকল্পনার বিষয়টি জানতে পেরে কমিশন তা আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে জানায়।
গত সপ্তাহে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল শিবিরের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল কমিশনে।
সন্ধ্যায় শিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল খালেদা জিয়া ও মন্নুজান হলে প্রোজেকশন সভা করে। খালেদা জিয়া হলের শিক্ষার্থীদের জন্য তারা বাইরে থেকে চেয়ার ভাড়া করে আনে। কিন্তু হল প্রশাসন তাদের হলের চেয়ার ব্যবহারের নির্দেশ দেয়।
পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে শিক্ষার্থীদের জন্য টেস্টি ট্রিট রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার (স্যান্ডউইচ, চকলেট, সস) আনে প্যানেলটি। সে সময় উপস্থিত হন নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দসহ অন্যরা। তারা খাবারগুলো প্রবেশে বাধা দেন এবং ফেরত পাঠান।
কমিশনের বাধার পর শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা রাত সাড়ে ৮টা থেকে প্রায় ৪৫ মিনিট নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ ফয়সাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের প্যানেল এখন পর্যন্ত কোনো আচরণবিধি ভঙ্গ করেনি। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ক্লাসরুমে গিয়ে প্রচারণাসহ একাধিক বিধি লঙ্ঘন করছে, অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতিতে অতিথিদের আপ্যায়ন একটি অংশ। পরিচিতি সভায় সামান্য খাবার দেওয়ায় যদি বাধা দেওয়া হয়, তাহলে সেটা অযৌক্তিক। আচরণবিধিতেও খাবার নিয়ে স্পষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।’
অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘খালেদা জিয়া হল থেকে বের হওয়ার সময় দেখি, একজন ছেলে কিছু খাবারের প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জিজ্ঞেস করলে জানায়, পরিচিতি সভায় বিতরণের জন্য এসব খাবার আনা হয়েছে। তখন আমি তাকে জানাই, এভাবে খাবার বিতরণ করা যাবে না। পরে খাবারগুলো ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হয়তো এমন আয়োজন করতে পারে না, কিন্তু জোটবদ্ধরা পারে। এতে প্রার্থীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়। আমরা চাই সবাই সমান সুযোগে নির্বাচনে অংশ নিক।’
নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা জানান, তারা নিয়মিতভাবে হলগুলো ঘুরে দেখছেন, যেন কোনো প্রার্থী নিয়মবহির্ভূত উপহার বা খাবার বিতরণ না করতে পারে এবং কোনো শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি না দেখানো হয়।