বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৫৩ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক চাকরিপ্রার্থী। রাহাত ইসলাম হৃদয় নামের ওই প্রার্থী নিজের যোগ্যতা থাকার পরও মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার অভিযোগ, নিয়োগের আগে তার কাছে ‘নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায়’ অর্থ দাবি করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ নুরুল হুদার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব, রেজিস্ট্রার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের এই নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে অভিযোগের তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে, অন্যথায় উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
রাহাত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষাতেই প্রথম স্থান অধিকার করেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিলেও মৌখিক পরীক্ষার জন্য তিনি ডাক পাননি।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর রাহাত উপাচার্যের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন, যার অনুলিপি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনেও পাঠানো হয়। অভিযোগের সঙ্গে বিভাগের চেয়ারম্যানের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডও জমা দেন তিনি। আইনি নোটিশে রাহাত অভিযোগ করেন, ‘নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান স্যার আমাকে নিজ মুখে বলেছেন যে, যদি আমি চাকরি পেতে চাই, তবে নির্দিষ্ট একটি প্রক্রিয়ায় অর্থ দিতে হবে। অর্থ ছাড়া চাকরি পাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।’
এছাড়াও নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ পরিবর্তন এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মীর মেহবুব আলম বলেন, ‘এটা মনগড়া অভিযোগ। নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ হচ্ছে, তা সবাই জানেন। সে আমারই ছাত্র, কিন্তু ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম ১০ জনের মধ্যেও আসতে পারেনি।’ কথোপকথনের অডিও রেকর্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন এআই দিয়ে সবকিছু করা যায়। এটা ভিত্তিহীন।’
নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ পরিবর্তনের বিষয়টিকে ‘প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তি আছে কি না, সেটা আমরা খতিয়ে দেখব। অভিযোগ যখন করা হয়েছে, তখন তা আমাদের দেখতেই হবে। আইনি নোটিশের বিষয়টিও আইনিভাবেই মোকাবিলা করা হবে।’