জাকসু
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৫৩ এএম
তিন দশক পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে দশম সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী প্যানেল’ থেকে আব্দুর রশিদ জিতু। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার স্বপ্ন ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রাজিব রায়হান।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : নির্বাচিত হতে পেরে কেমন লাগছে?
জিতু : আস্থা রেখে আমাকে নির্বাচিত করেছে, এজন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা রক্ষা করতে পারবেন তো?
জিতু : জাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করতে পারেনি। সোমবার আনুষ্ঠানিক মিটিং হওয়ার কথা। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি কাজে অনানুষ্ঠানিকভাবে হাত দিয়েছি। তার মধ্যে অন্যতম পরিবহন সংকট নিরসন।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : সবার আগে কোথায় পরিবর্তন আনা দরকার?
জিতু : সবার আগে আমাদের একাডেমিক রিফরমেশন জরুরি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একটি গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় । একাডেমিক রিফরমেশনের অভাবে শিক্ষার্থীরা তাদের সুযোগ-সুবিধা এবং অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমরা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অটোমেশন চালু করব। ক্লাসরুম ও ল্যাব সংকট দূর করার পাশাপাশি চিকিৎসাকেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ করব। ডাইনিংয়ের ভর্তুকি, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধিতে কাজ করব।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি কি দূর করা সম্ভব?
জিতু : গণঅভ্যুত্থানের পরই আমরা চেয়েছিলাম কেউ কারও লেজুড়ভিত্তিক করবে না, ছাত্র সংগঠনগুলো কোনো দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে না। ত্রাসের রাজনীতি থেকে সরে শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি গড়ে উঠবে। এটা করতে পারলে সৎ, পরিচ্ছন্ন ও দক্ষ নেতৃত্ব আমরা দেখতে পাবও। বিগত দিনে আমরা দেখেছি, যে দল ক্ষমতায় তারা ক্যাম্পাসে পেশিশক্তির রাজনীতি করেছে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : শুধুই কি লেজুড়ভিত্তিক শিক্ষার্থী রাজনীতি নাকি শিক্ষক রাজনীতিও পরিবেশকে নষ্ট করছে?
জিতু : শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয় রাজনীতি ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করে। ক্যাম্পাসের স্বার্থে অবশ্যই রাজনীতির দরকার আছে। শিক্ষকরা যদি ব্যক্তি স্বার্থের জন্য কিংবা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য রাজনীতি করেন, তা মঙ্গলজনক হবে না। আমরা চাই কোনোন নির্দিষ্ট দলের জন্য রাজনীতি না হয়ে রাজনৈতিক সহাবস্থান যাতে বজায় থাকে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : একটি অংশ নানা অভিযোগের কথা তুলেছে। নির্বাচন কি সুষ্ঠু হয়েছে?
জিতু : জাকসু নির্বাচন এ প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তেত্রিশ বছর একটি নির্বাচন বন্ধ থাকায় সেখানে অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি ছিল কিন্তু কারচুপি, পক্ষপাতিত্ব, বিশেষ কাউকে সুবিধা দেওয়ার জন্য কোনো ঘটনা কিন্তু ঘটেনি।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : ভবিষ্যতে রাজনীতি করার কোনো চিন্তা রয়েছে কি না?
জিতু : আছে। তবে যত দিন আমি ভিপির দায়িত্ব পালন করব তত দিন আমি কোথাও যাচ্ছি না। তবে যারা ৫২-এর , ৭১-এর চেতনায় বিশ্বাসী এবং ২৪-কেউ যারা একই সঙ্গে ধারণ করবে, এ রকম যে কারও সঙ্গে আমি কাজ করতে চাই।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ : শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ কোনো বার্তা?
জিতু : বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করব, সবাই পাশে থাকবেন। আপনাদের নিয়েই নতুন এক জাহাঙ্গীরনগর বিনির্মাণ করতে চাই।