× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জাকসু নির্বাচন

কমিশনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে সম্প্রীতি ঐক্য

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৪৭ পিএম

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৫৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদের নির্বাচনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সমর্থিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেল। 

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টম্বর) দুপুরে দিকে তারা এই অনাস্থা প্রকাশ করে।

ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সমর্থিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলের সহ-সভাপতি ( ভিপি) প্রার্থী স্মরণ এহসান বলেন,  ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ সারাদিন ভোট গ্রহণ চলবে। আমরা ভীষণ রকম আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছিলাম, জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীবৃন্দ একটা অধীর অপেক্ষায় ছিল— এই দিন কবে আসবে;  যেদিন শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভোট প্রদান করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা তাদের জাকসুর প্রতিনিধি বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে তাদের অধিকার, দাবি-দাওয়ার কথা সিনেটে পৌঁছে দিতে পারবে। কিন্তু আমরা নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নানান ধরনের অনিয়ম, অস্বচ্ছতা, পক্ষপাতদুষ্টতা, নানান ধরনের কর্মকাণ্ড দেখে আসছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে, গত ২৯ আগস্ট বিকেল ৪ টার পর থেকে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু আমরা নানান সময়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নানান ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। যেই অভিযোগগুলো নির্বাচন কমিশন কোনো রকম সুরাহা করেনি। কোনো রকম সুরাহা তারা করেনি। বরং নানান সময়ে তারা অভিযোগ উপেক্ষা করেছে বা পাশ কাটিয়ে যেতে চেয়েছে অভিযোগগুলো। 

অভিযোগ তুলে এই ভিপি প্রার্থী বলেন, আপনারা জানেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকল প্রার্থীর জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক ছিল। আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, অনেক প্রার্থী ডোপ টেস্ট করেননি। 

এবং ডোপ টেস্টের ফলাফল এখনো অবধি প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। এত কিছুর পর আমরা আসলে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের চূড়ান্ত রকম ভরসা, আস্থার জায়গা, তারা হারিয়ে ফেলেছে। আজকে সকাল থেকে যখন নির্বাচনী ভোট গ্রহণ শুরু হলো, আপনারা জানেন যে অনেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট সংক্রান্ত অনেক জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ গতকাল রাত ২ টার পরে আমাদেরকে জানানো হয়েছে যে, আমরা কেন্দ্রগুলোতে পোলিং এজেন্ট রাখতে পারব। কিন্তু সকালে যখন হলে হলে আমাদের পোলিং এজেন্ট গেছে, তাদের নানানভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। তাদেরকে নানানভাবে ডিমোটিভেট করা হয়েছে, অনুৎসাহিত করা হয়েছে। নানান কথা বলা হয়েছে। এরকম আরো অসংখ্য অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। 

স্মরণ এহসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে নানা অনিয়ম এবং অসঙ্গতি চলছে। এই অনিয়মের শুরু সম্প্রীতির ঐক্যের ভিপি প্রার্থী অমর্ত রায়ের প্রার্থিতা জোরপূর্বক এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বাতিল করার মাধ্যমে। এই অনিয়মের ধারাবাহিকতায় আজ ভোট গ্রহণের চূড়ান্ত অনিয়ম এবং প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর আগে ডোপ টেস্ট ইস্যুতে অনেক প্রার্থী ডোপ টেস্ট না করেও প্রার্থী হয়েছেন, যে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই।  আমরা সকাল থেকে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে সকাল থেকেই নানান ধরনের অভিযোগ পাওয়া শুরু করেছি।

বিভিন্ন হলের প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন,  গতকাল (১০ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে হুট করে পোলিং এজেন্ট নিয়োগের অনুমতি দিলেও, প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে যেমন ১০ নং ছাত্র হল, রোকেয়া হল, কাজী নজরুল ইসলাম হলসহ বিভিন্ন হলে সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেল মনোনীত পোলিং এজেন্টের দীর্ঘ সময় ঢুকতে দেয়া হয়নি। বলা হয়েছে, আমাদের উপর ভরসা রাখুন। অথচ এই সময়কালে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান ছিল। প্রশাসনের এহেন আচরণ ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সকাল থেকে অধিকাংশ হলেই ভোটদানকৃত ভোটারদের হাতে কালো কালির মার্ক দেয়া হয়নি, যেটাকে অমোচনীয় কালি বলে আমরা জানি। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে স্থাপনকৃত এলইডি স্ক্রিনে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করার কথা ছিল এবং এই উসিলায় প্রশাসন স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি করে পোলিং এজেন্টবিহীন নির্বাচন করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। অথচ সেই স্ক্রিনগুলি আজ দীর্ঘ সময় বিকল হয়ে পড়ে আছে। আমরা মনে করি, এরকম লুকোচুরি আদতে নির্বাচনের স্বচ্ছতাকেই ভয়াবহভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। 

শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, প্রায় প্রতিটি হলেই ছাত্রশিবির ও ছাত্রী সংস্থার কর্মীরা নিজ প্রার্থীদের নাম সম্বলিত চিরকুট বিলি করেছেন। যার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা। ইতোমধ্যেই জাহানারা ইমাম হলে এক শিক্ষার্থীকে মারধরেরও অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নজরুল হলে, কাজী নজরুল হলে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে সব প্রার্থীর নাম না থাকায় সেখানে প্রথমে বাকি প্রার্থীদের নাম ছাড়াই নির্বাচন চলতে থাকে এবং পরবর্তীতে হাতে লিখে প্রার্থীদের নাম ব্যালট পেপারে যোগ করা হয়েছে। এ সকল অনিয়মে আমরা মনে করছি, এই নির্বাচন যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হচ্ছে না। আমরা এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করছি এবং বলতে চাই, তারা শুরু থেকেই আসলে আমাদের প্রতি আমাদের আস্থা, ভরসা এবং আকাঙ্ক্ষার জায়গা নষ্ট করেছে। এবং চূড়ান্তভাবে আমরা আজকে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যে অনিয়ম, অসচ্ছতা, যে অদক্ষতা, অপরিকল্পনাও বলব—নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের তার মধ্য দিয়ে আমরা আসলে চূড়ান্ত রকমভাবে হতাশ, ক্ষুব্ধ। এবং আমরা আসলে বলতে চাই যে, নির্বাচন কমিশনকে আরো সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। আরো পরিকল্পিত আচরণের মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দরকার ছিল। এখনো ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। আমরা আশা করি, যে সমস্ত বিষয়ে তারা আরো বেশি তদারকি চালাবে। 

 সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেলের সহকারী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী পদে প্রার্থী) ফারিয়া জামান নিকি বলেন,  আমাদের বিভিন্ন হলগুলোতে, যেমন ধরুন, আমাদের ছেলেদের হল এবং মেয়েদের কিছু হলে আমাদের প্রথম দুই-তিন ঘণ্টা পোলিং এজেন্টদের নানা ধরনের কনফিউজিং বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যেমন, কিছু হলে বলা হয়েছে যে, পোলিং এজেন্টদের যে অ্যাপ্লিকেশনটা আছে সে অ্যাপ্লিকেশনে যে প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট, সে প্রার্থীর সাইন লাগবে। আবার ধরুন, কিছু হলে বলা হয়েছে যে, কোনো প্রার্থীর কেউ পোলিং এজেন্ট হতে পারবে না। প্যানেল থেকে মাত্র একজন পোলিং এজেন্ট হতে পারবে। রোকেয়া হলে বলা হয়েছে যে, পোলিং এজেন্ট হতে গেলে তার ছবি লাগবে। ছবি হলে শুধুমাত্র সে পোলিং এজেন্ট হতে পারবে, না হলে পারবে না। এই দেখুন, তিনটা হলের বক্তব্য একটার সাথে কিন্তু আরেকটা মেলে না। প্রথমত আমি বলতে চাই, রাত ২:০০ টায় পোলিং এজেন্ট হওয়ার বিষয়টা। এই পোলিং এজেন্ট হওয়ার জন্য আমরা প্রিপেয়ারড ছিলাম। পোলিং এজেন্ট হওয়ার বিষয়টা তো সকালে ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। রাত ২ টায় হয়েছে। ঠিক আছে। আমরা মেনে নিয়েছি। আমরা শেষ মুহূর্তে পোলিং এজেন্ট ম্যানেজ করেছি। সব হলে পোলিং এজেন্ট ম্যানেজ করতে পারিনি। যে হলগুলোতে পেরেছি, সেগুলোতেও আমাদের পোলিং এজেন্টদের নানাভাবে নানা কনফিউজিং, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা