প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৪২ পিএম
নানা কর্মসূচির মাধ্যমে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) বর্ষপূর্তি সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) উদযাপিত হয়েছে। প্রতিবেদকদের পাঠানো খবর-
খুলনা : নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রীতি সমাবেশ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আনন্দ শোভাযাত্রা, অডিটোরিয়ামে ‘কুয়েটের অর্জন, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রেজেন্টেশন ও আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং বিভিন্ন বিভাগের ল্যাবগুলো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করেন কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মাকসুদ হেলালী। এ সময় তিনি বলেন, কুয়েটের সম্মান রক্ষা, বিকাশ ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। কুয়েট বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। এজন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অসীম অবদান রয়েছে। এই অবদানকে সম্মান করে আমরা আরো এগিয়ে যাবো এবং দেশ ও দশের সেবায় নিয়োজিত থাকবো।
রাজশাহী : বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হলো ইনোভেটিভ ও ক্রিয়েটিভ মানুষ তৈরি করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস রুমগুলো আমাদেরকে প্রশ্ন করার অধিকার দেয়। প্রশ্ন করার মধ্য দিয়ে নতুন জ্ঞান তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি দিক, যার একটি অবকাঠামো এবং অপরটি শিক্ষা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানুষের আকাঙ্খাকে ধারণ করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুর রাজ্জাক। উপাচার্য তার বক্তব্যে বলেন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের প্রতি জনগণের আকাঙ্খা হলো বিজ্ঞানকে প্রযুক্তিতে রুপান্তর করা। দেশীয় প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং বিকাশের জন্য যে দায়িত্ব আমাদের প্রতি অর্পিত, সেই দায়িত্ব যদি আমরা সঠিক ভাবে পালন করতে পারি, তবেই দেশ এগিয়ে যাবে। এর মধ্য দিয়েই জনগণের আশা-আকাঙ্খার বাস্তবায়ন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টায় জাতীয় ও রুয়েটের পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করা হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে রুয়েটের শহীদ শিক্ষার্থীদের কবর জিয়ারত করা হয় এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। রুয়েটে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি পালন করা হয়। বেলা সাড়ে দশটায় অতিথি সহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে রুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে আনন্দ র্যালি বের করা হয়।
র্যালি শেষে রুয়েটের প্রশাসনিক ভবনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে রুয়েটের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী পোস্টার প্রেজেন্টেশন, বিতর্ক প্রতিযোগীতা, রক্তদান কর্মসূচি, চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি উদযাপন করা হয়।