চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫ ২০:৪৭ পিএম
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫ ২১:০০ পিএম
বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি বৈষম্য নিরসন এবং তিন দফা দাবিতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম নগরীর দুই নম্বর গেইট এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন।
বুধবার (২৭ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে নগরীর মুরাদপুর, অক্সিজেন সড়ক, চকবাজার ও মেডিকেল সংযোগ সড়কে যানচলাচল ব্যাহত হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা জিইসি মোড় থেকে মিছিল সহকারে এসে দুই নম্বর গেইটে জড়ো হন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে অফিস ফেরত লোকজন ভোগান্তিতে পড়েন এবং অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছান। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ঢাকায় বুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বাধার নিন্দা জানানো হয়। পরে সন্ধ্যায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সেখানে ‘অন্তবর্তী সরকারের অকাল মৃত্যুতে গায়েবানা জানাজা শিরোনামে’ নামাজ আদায় করেন।
অন্যদিকে চুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারী শিক্ষার্থীরাও মশাল মিছিল করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হওয়া মিছিলটি পলিটেকনিক মোড় থেকে বের হয়ে দুই নম্বর গেইটে এসে শেষ হয়।
এ সম্পর্কে জানতে পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নুরুজ্জামান ঘটনাস্থলে যাওয়া থানার সেকেন্ড অফিসার আইয়ুব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে একাধিকবার কল করেও আইয়ুব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান রোকন নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম হোসেনের কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ২০-২৫ জন প্রকৌশল ডিপ্লোমাধারী কর্মচারী-কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে সহকারী প্রকৌশলী মাজেদুল, সহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার জামান সাইদ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত, সাদ্দাম ও গোলাম কিবরিয়া সোহান রোকনকে ঘিরে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন এবং হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শুরু করেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা।
প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবিসমূহ হলো- নবম গ্রেডে নূন্যতম যোগ্যতা বিএসসি রেখে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ। দশম গ্রেডকে কোটামুক্ত করে বিএসসিদের জন্য সুযোগ করে দেয়া এবং বিএসসি ছাড়া যেন কেউ প্রকৌশলী পদবী ব্যবহার না করতে পারে তা নিশ্চিত করা।