বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৩৫ পিএম
ড. মোহাম্মদ মেহেদী উল্লাহ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মেহেদী উল্লাহর বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম ও নম্বর টেম্পারিংয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করেই তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ২০১৬ সালে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১২ মে ফোকলোর বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সর্বনিম্ন সিজিপিএ ৩.৫০ (৪ এর মধ্যে) শর্ত দেওয়া হয়। তবে বিশেষ যোগ্যতা (পিএইচডি, এমফিল, জাতীয় পুরস্কার, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা) থাকলে একাডেমিক ফলাফলের যেকোনো একটিতে আংশিক ছাড়ের বিধান রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মেহেদী উল্লাহর স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৩১ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৬৮ হওয়ায় তিনি শর্ত পূরণ করেননি। বিশেষ যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের লেখা একটি বইকে বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে দেখিয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে বইটি কোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে নয়, একটি বেসরকারি প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত। এতে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে নম্বর টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে নিজের পছন্দের এক ছাত্রীকে প্রথম করা এবং অন্য প্রার্থীদের ফলাফল ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবিতে এ ঘটনায় তাকে এক শিক্ষাবর্ষের সব কোর্স থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সম্পর্কে ড. মোহাম্মদ মেহেদী উল্লাহ বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা ও অপপ্রচার। সমস্ত শর্ত পূরণ করেই লিখিত ও ভাইভায় প্রথম হয়ে আমি নিয়োগ পাই।’ নম্বর টেম্পারিং প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘এ অভিযোগ সত্য নয়। আমি কখনো এমন কাজে যুক্ত ছিলাম না, বরং বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত নই।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এসব বিষয় নিয়ে একাডেমিক অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি কাজ করছে। রিপোর্ট পেলেই আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।’