কুয়েটে রোকেয়া হল কেলেঙ্কারি
খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ২৩:০৮ পিএম
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৫ ২৩:০৮ পিএম
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) একমাত্র রোকেয়া ছাত্রী হলে আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগ উঠেছে, হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম ছাত্রীদের হলের হিসাব থেকে একদিনে ৩৪ লাখ টাকা তুলে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জনতা ব্যাংকের কুয়েট কর্পোরেট শাখার হিসাব বিবরণী অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই প্রভোস্ট নিজস্ব স্বাক্ষরে ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টের যৌথ স্বাক্ষরে অর্থ তোলার কথা থাকলেও সহকারী প্রভোস্ট তাসমি আক্তার জানান, আমি স্বাক্ষর করে চলে গিয়েছিলাম। পরে প্রভোস্ট স্যার নিজেই এমাউন্ট বসিয়ে টাকা তুলে নেন।
ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল হামিদ বলেন, ১০ লাখ টাকার বেশি উত্তোলনের ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট করলেই হয়। স্বাক্ষর মিলে গেলে ব্যাংক অর্থ প্রদান করতে বাধ্য।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক আশরাফুল আলম বলেন, পারিবারিক কারণে টাকা উঠানো হয়েছিল। ডিসেম্বরের মধ্যে কিস্তি করে ফেরত দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, একটি লোনের চেষ্টা চলছে, যা পেলে টাকা সমন্বয় করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রভোস্টের বিরুদ্ধে এর আগেও আর্থিক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অনৈতিক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর এক আত্মীয়কে হলে চাকরি দেওয়াসহ অর্থের বিনিময়ে প্লাম্বার, লাইব্রেরিয়ান, ঝাড়ুদার ও সুইপার পদে নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সম্প্রতি তিনি জাব্দিপুর এলাকায় জমি কিনেছেন, যা এই অর্থ উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ হেলালী বলেন, হলের টাকা কিভাবে তোলা হলো, তা প্রভোস্ট ও সংশ্লিষ্টরা ভালো জানেন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব জোরদারের কথা থাকলেও, এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের আস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।