প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৫ ১১:২০ এএম
আপডেট : ২৭ জুন ২০২৫ ১১:২২ এএম
পরীক্ষা দিতে না পেরে অঝোরে কাঁদছেন শিক্ষার্থী। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবি।
অসুস্থ মাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেরি হওয়ায় প্রথম দিনের এইচএসসি না দিতে পারা সেই মেয়েটির পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
শুক্রবার (২৭ জুন) প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
রাজধানীর সরকারি মিরপুর বাঙলা কলেজ কেন্দ্রের ওই পরীক্ষার্থীকে এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মানবিক বিবেচনায় ওই শিক্ষার্থীর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অসুস্থ মাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেরি হওয়ায় প্রথম দিনের পরীক্ষায় রাজধানীর সরকারি মিরপুর বাঙলা কলেজ কেন্দ্রের এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা না দিতে পারার একটি ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। অসুস্থ মাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেরি হওয়ায় প্রথম দিনের পরীক্ষায় ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা না দিতে পারার একটি ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।
এ বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার বলেন, ‘মানবিক বিবেচনায় ওই শিক্ষার্থীর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত আইন ও বিধির আলোকে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তার এ দুঃসময়ে আমরাও সমব্যথী। এ পরীক্ষার্থীকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
গতকাল বৃহস্পতিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনের ঘটনা।
পরিবারে দায়িত্বশীল কেউ না থাকায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া মাকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান ওই এইচএসসি পরীক্ষার্থী। মাকে হাসপাতালে রেখে যান পরীক্ষার কেন্দ্রে। কিন্তু উপস্থিত হতে দেরি হওয়ায় তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশই করতে দেওয়া হয়নি। ফলে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি ওই শিক্ষার্থী। এতে কেন্দ্রের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই পরীক্ষার্থী।
রাজধানীর সরকারি মিরপুর বাঙলা কলেজ কেন্দ্রের ওই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
পরীক্ষা দিতে না পারায় ওই কেন্দ্রের সামনে তাকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। তবুও ওই শিক্ষার্থী কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেনি।
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেটিজেনরা, করেন নানা মন্তব্য। অনেকেই ফেসবুক পোস্টে ওই শিক্ষার্থীকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ফের পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান।
জানা গেছে, এইসএসসি পরীক্ষার্থী ওই মেয়েটির বাবা বেঁচে নেই।