নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৫ ২০:১৩ পিএম
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৫ ২০:২১ পিএম
আবাসন সংকটসহ পাঁচ দফা দাবিতে বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে তালা ঝুলিয়ে কলেজ শাটডাউন ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুর ১২টায় ক্যাম্পাস জুড়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এর আগে বেলা ১১টায় শিক্ষার্থীরা কলেজসংলগ্ন প্রধান সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন। এতে নগরীর নতুন বাজার থেকে নথুল্লাবাদ পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা জানান, ব্রজমোহন কলেজকে দক্ষিণ বাংলার অক্সফোর্ড বলা হয়। দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতি বছর ১৩৬ বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ৭১-এর স্বাধিকার আন্দোলন, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ ২৪-এর বিপ্লবে বরিশাল নেতৃত্ব দিয়েছে। বর্তমানে এই কলেজে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন। কিন্তু ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর মাত্র ৫% হল সুবিধা ভোগ করেন। বর্তমানে কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে একটি মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলোর বাস্তবায়ন অতীব জরুরি হয়ে উঠেছে।
দাবিগুলো হলোÑ
বহুতল বিশিষ্ট হল নির্মাণ : বর্তমানে হল সংকটের কারণে অনেক অসহায় শিক্ষার্থী হল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমান হলগুলো পাকিস্তান আমলের হওয়ায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই বহুতলবিশিষ্ট হল নির্মাণ এবং পুরনো হলগুলো আশু সংস্কার প্রয়োজন।
আধুনিক লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম নির্মাণ এবং কলেজগেট আধুনিকায়ন : জ্ঞানচর্চার উৎকর্ষ সাধনের জন্য একটি ডিজিটাল ও সজ্জিত লাইব্রেরি প্রয়োজন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য সুসজ্জিত ও আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণ প্রয়োজন। পাশাপাশি কলেজের গেটগুলো নতুনভাবে নির্মাণ প্রয়োজন।
জলাবদ্ধতা নিরসনে রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা : বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বার্ষিক বাজেট বৃদ্ধি : শতবর্ষী কলেজ হিসেবে ব্রজমোহন কলেজ পরিচালনায় যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই পর্যাপ্ত বার্ষিক বাজেট বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
পরিবহন ও শিক্ষক সংকট নিরসন : দুঃখের বিষয় হলো যে, ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াতের জন্য মাত্র তিনটি কলেজ বাস রয়েছে। তাই দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত বাস ও যানবাহনের ব্যবস্থা দ্রুত প্রয়োজন। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ সময় বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, বিএম কলেজে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও ন্যূনতম আবাসন সুবিধা নেই, যা রয়েছে তার অবস্থাও বেহাল। বৃষ্টি হলে কলেজ ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা নিরসন করে রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য দাবি যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করতে হবে। যত দিন পর্যন্ত দাবি মানা না হবে, তত দিন পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কলেজ অধ্যক্ষের অনুরোধে আপাতত ৩ কার্যদিবসের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে এবং কলেজ শাটডাউনের আওতায় ভর্তি কার্যক্রম বাদে সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
অধ্যক্ষ ড. তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তিন দিনের সময় পেয়েছি। দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে। আশা করছি ভালো কিছু হবে।’